ফের মুখোমুখি ইরান-ইজরায়েল, ক্ষেপণাস্ত্র ও পালটা হামলায় উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া; উদ্বেগে ভারতও

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আবারও চরমে। লেবাননে ইজরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের জেরে নতুন করে সংঘর্ষে জড়াল ইরান ও ইজরায়েল। রবিবার গভীর রাতে ইজরায়েলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বায়ুসেনা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এর জবাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলা চালায় ইজরায়েল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

ইরানের অভিযোগ, বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই রবিবার রাতে ইজরায়েলের নেভাটিম এবং তেল নফ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

রাত গভীর হতেই ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দও শুনতে পান। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, দেশের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে অধিকাংশই মাঝআকাশে প্রতিহত করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দশটি ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলের দিকে ধেয়ে এসেছিল।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পালটা অভিযান শুরু করে ইজরায়েল। ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাহশাহারে অবস্থিত একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলার খবর পাওয়া যায়। পাশাপাশি তেহরান-সহ দেশের মধ্য ও পশ্চিম অংশের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসফাহান, কারাজ এবং তাবরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও হামলার খবর সামনে এসেছে। ইজরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং কৌশলগত ঘাঁটিগুলি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি।

পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতেই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে দু’পক্ষকে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধ করার আহ্বান জানান। পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরান ও ইজরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যদিও সেই বিষয়ে দুই দেশের তরফে বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি তৎক্ষণাৎ সামনে আসেনি।

এই অস্থিরতার মধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে তেহরানের ইমাম খোমেইনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে ইরানের বিস্তীর্ণ আকাশসীমাতেই উড়ান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

পরিস্থিতির অবনতি দেখে সতর্ক হয়েছে ভারতও। সোমবার তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি পরামর্শবার্তা জারি করা হয়। সেখানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের প্রয়োজন হলে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন করে কেউ যেন এই মুহূর্তে ইরানের উদ্দেশে যাত্রা না করেন, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার এই নতুন সংঘাত কত দূর গড়ায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ ইরান ও ইজরায়েলের সরাসরি সংঘর্ষ শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তার প্রভাব গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির উপরও পড়তে পারে।