সংসদের রেলওয়ে বিষয়ক স্থায়ী কমিটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শুক্রবার গ্যাংটকে অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা এবং রেল প্রকল্প নির্মাণকারী সংস্থা ইরকন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রকল্প। তবে বিশেষ গুরুত্ব পায় বহু প্রতীক্ষিত সেভক-রংপো রেললাইন প্রকল্প, যা সম্পূর্ণ হলে প্রথমবারের মতো সিকিম সরাসরি দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে।
বৈঠকের পাশাপাশি প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও ঘুরে দেখে। রংপো রেলওয়ে স্টেশন চত্বর, বিভিন্ন সেতু এবং টানেল নম্বর ১৪-সহ প্রকল্পের বেশ কয়েকটি অংশ পরিদর্শন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইরকনের আধিকারিকরা প্রতিনিধি দলকে কাজের বর্তমান অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
ইরকনের দাবি, প্রায় ৪৪.৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের ৭৭ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই সফরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব, আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের রেল ম্যানেজার এবং ইরকনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেভক-রংপো রেলপথ চালু হলে সিকিমের সঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রান্তের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। শুধু যাত্রী পরিবহণ নয়, পণ্য পরিবহণেও গতি আসবে। পাশাপাশি পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সংসদের রেলওয়ে বিষয়ক স্থায়ী কমিটির এই প্রতিনিধি দলের সফরসূচি আগামী ৯ জুন পর্যন্ত চলবে। গ্যাংটকের পাশাপাশি কলকাতা ও ঋষিকেশেও বিভিন্ন রেল প্রকল্প এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

Social Plugin