মেসিকে ঘিরে অপেক্ষার অবসান, আইসল্যান্ড ম্যাচে নামার ইঙ্গিত; চোট-উদ্বেগে আর্জেন্তিনা ও ব্রাজিল দুই শিবিরই

কয়েক দিন আগেই তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য গ্যালারিতে ভিড় করেছিলেন প্রায় ৯১ হাজার দর্শক। কিন্তু মাঠে নেমে জাদু দেখানোর সুযোগ হয়নি লিওনেল মেসির। হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি। ম্যাচ শেষে শুধু সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়েই দায়িত্ব সেরেছিলেন আর্জেন্তাইন অধিনায়ক।

চোট কাটিয়ে দলে ফিরলেও তাঁকে নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাননি কোচ লায়োনেল স্কালোনি। তবে সেই অপেক্ষা সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে) আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামার জন্য তৈরি মেসি। ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন তিনি।

আলাবামার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কানসাস সিটির বেস ক্যাম্পে পুরোদমে অনুশীলন করেছেন মেসি। অনুশীলনে তাঁর গতিবিধি দেখে কোচিং স্টাফও আশ্বস্ত বলেই খবর। ফলে বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল।

তবে মেসির ফেরা যতটা স্বস্তির, ততটাই উদ্বেগে রয়েছে আর্জেন্তিনা শিবির। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই একাধিক ফুটবলারের চোট দলকে চিন্তায় ফেলেছে। ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছেন ডিফেন্ডার লিওনার্দো বেলার্দি। অন্যদিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ হাতের আঙুলে চোট নিয়েই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আইসল্যান্ড ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা রয়েছে, তেমনই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও তিনি মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে আর্জেন্তিনার জন্য সুখবরও রয়েছে। মেসির পাশাপাশি চোট কাটিয়ে দলে ফিরতে চলেছেন জুলিয়ান আলভারেজ এবং নিকো পাজ। আক্রমণভাগে এই দুই তরুণ ফুটবলারের উপর যথেষ্ট ভরসা রয়েছে স্কালোনির। বিশ্বকাপের আগে তাঁদের সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর আর্জেন্তিনা শিবিরের জন্য।

শুধু আর্জেন্তিনাই নয়, চোট সমস্যায় ভুগছে ব্রাজিলও। দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার এখনও পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। সোমবার তাঁর চোটগ্রস্ত অংশে ফের এমআরআই পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরিষ্কার হবে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না।

এর মধ্যেই আরও একটি ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। গত শনিবার মিশরের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছেন ওয়েলসি। তাঁর পরিবর্তে দলে ডাকা হয়েছে এডারসনকে। সোমবারই তিনি ব্রাজিল দলের বেস ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন এবং অনুশীলনও শুরু করেছেন।

বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন যখন শেষ পর্যায়ে, তখন আর্জেন্তিনা ও ব্রাজিল—দুই শিবিরেই এখন সবচেয়ে বড় লড়াই ফিটনেস নিয়ে। সমর্থকদের নজরও তাই শুধু প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফলে নয়, দলের তারকা ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থার দিকেও।