লখনউতেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। ফলে শনিবার চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচ ভারতের কাছে শুধুই নিয়মরক্ষার নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে দলের বেঞ্চ শক্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতা অবশ্যই লক্ষ্য, তবে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হবে নতুন এবং রিজার্ভ ক্রিকেটারদের আরেকবার পরীক্ষা করে দেখা।
এই সিরিজে বিরাট কোহলি, যশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার মতো অভিজ্ঞদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ফলে তরুণদের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ মিলেছে। ইতিমধ্যেই অভিষেক হয়েছে দুই পেসার গুরনুর ব্রার ও প্রিন্স যাদবের। গুরনুর প্রথম দুই ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। প্রিন্সও নিজের একমাত্র ম্যাচে দুটি উইকেট তুলে নজর কেড়েছেন। অভিজ্ঞ অর্শদীপ সিংও ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করে দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
শেষ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলে যোগ দিয়েছেন হর্ষিত রানা। হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফেরা এই পেসারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তাঁর উপস্থিতি শুধু বোলিংয়েই নয়, নিচের সারির ব্যাটিংয়েও ভারসাম্য আনতে পারে।
চেন্নাইয়ের সমুদ্রতট সংলগ্ন মাঠে নজর থাকবে রোহিত শর্মার দিকেও। আগামী একদিনের বিশ্বকাপের দলে তাঁর জায়গা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সেই আলোচনা আরও জোরালো। ফলে বড় একটি ইনিংস খেলে সমালোচনার জবাব দিতে চাইবেন ভারতীয় অধিনায়ক।
যশস্বী জয়সওয়ালও লখনউয়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ ম্যাচে তাঁর কাছ থেকেও বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকবে। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে অধিনায়ক শুভমান গিল তিন নম্বরে নেমে শতরান করেন। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শতরান হাঁকান ঈশান কিষাণও। তাঁদের জুটিই ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তবে সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার এখনও নিজের ছন্দ খুঁজে পাননি। লোকেশ রাহুলও আগের ম্যাচে প্রথম বলেই ফিরে যান। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এই দু'জনের কাছেও শেষ ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডিকেও ফের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের জন্য এই সিরিজ এখনও হতাশার। টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতার পর একদিনের ক্রিকেটেও তারা প্রত্যাশিত লড়াই দেখাতে পারেনি। অন্তত শেষ ম্যাচে সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইবেন রশিদ খানরা। ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা মহম্মদ নবিকেও এই ম্যাচে দলে দেখা যেতে পারে।

Social Plugin