তালসারিতে আউটডোর শুটিং করতে গিয়েই মর্মান্তিক পরিণতি। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের কাজ চলাকালীন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ঘটনাটা ঠিক কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ইউনিটের লোকজন যা বলছেন আর পুলিশের হাতে থাকা ফুটেজ—দুটোর মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেই জানাচ্ছে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
এই ঘটনার পর থেকেই শুটিং সেটে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন সরাসরি অভিযোগ তুলেছে, গাফিলতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা। তাদের দাবি, এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
সংগঠনটি চায়, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র প্রযোজনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হোক। পাশাপাশি প্রযোজক, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল—সবাইকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবিও তুলেছে তারা। রাহুলের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যা প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেলের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে বলে তাদের মত।
সোমবার সংগঠনের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, এটা কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতা। অভিযোগ, খরচ বাঁচাতে গিয়ে অনেক সময়ই নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হয়, যার ফল ভোগ করতে হয় শিল্পী ও কর্মীদের।
তাদের কথায়, দেশের নানা প্রান্তে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে টেকনিশিয়ান, কর্মী বা শিল্পীদের প্রাণ যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো চাপা পড়ে যায়, আর দোষীদের শাস্তি হয় খুব কম।
এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।

Social Plugin