ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনের একেবারে শীর্ষ স্তরে বড়সড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে। একই সঙ্গে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও কাজেই তাঁরা আর থাকতে পারবেন না।
নন্দিনীর জায়গায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। আর স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে তাঁদের। রবিবার বিকেলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলার এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হল।
ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি চালু হয়ে যায়। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের হাতে কিছু বিশেষ ক্ষমতা থাকে। প্রয়োজনে তারা রাজ্য প্রশাসনের আমলা, পুলিশকর্তা বা অন্যান্য আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে। আগেও বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত বদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব বদলের ঘটনাও নতুন নয়। তবে মুখ্যসচিব স্তরে এই ধরনের হস্তক্ষেপ সাম্প্রতিক কালে খুব একটা দেখা যায়নি বলেই প্রশাসনিক মহলের অনেকের মত।
এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তখন কমিশনের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত কমিশনের নির্দেশের সঙ্গে মিলছিল না। একই সময়ে সিআইডি-র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে থাকা রাজীব কুমারকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল।
নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে যাঁকে আনা হয়েছে, সেই দুষ্মন্ত নারিওয়ালা ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার। এতদিন তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ছিলেন। তার আগে বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সেচ দফতরেও কাজ করেছেন তিনি। এবার তাঁকেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, জগদীশপ্রসাদ মীনার জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন সংঘমিত্রা ঘোষ। তিনি ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এতদিন নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব ছিলেন। সেই দফতরে তিনি নারী-শিশু কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং একাধিক সামাজিক প্রকল্পের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেখছিলেন।
এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, আর দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে, দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে। ভোটগণনা হবে ৪ মে। রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে এই সূচি ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাম্প্রতিক অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এত কম দফায় বিধানসভা ভোট খুব একটা দেখা যায়নি। গত কয়েকটি নির্বাচনে সাধারণত ছয় থেকে সাত দফায় ভোট হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। এবার সেই তুলনায় অনেক কম ধাপে ভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।

Social Plugin