বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবলের দুই বড় শক্তি—ব্রাজিল আর ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়ামে এই প্রীতি ম্যাচটা ঘিরে আগ্রহটা বেশ ভালোই চোখে পড়ছে। দুই দল শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৫ সালে, তখন ব্রাজিল ৩-১ গোলে জিতেছিল। সেই হিসেবেও ম্যাচটা একটু আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচটা শুধু প্রীতি ম্যাচ না, একটু নিজেদের ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বললেও ভুল হবে না। লাতিন অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা একদম স্বস্তিতে ছিল না, আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশ পিছিয়েই শেষ করেছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও খুব আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো নয়। সামনে বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপে মরক্কো, মিশর আর হাইতি—কাগজে-কলমে খুব কঠিন না হলেও বর্তমান ফর্ম দেখে অনেকেই একটু দ্বিধায় আছেন, ব্রাজিল আসলে কতটা এগোতে পারবে।
ফ্রান্সের অবস্থাটা ঠিক উল্টো। বাছাইপর্ব দাপটের সঙ্গেই পেরিয়ে এসেছে তারা, আর বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই ধরা হচ্ছে দলটাকে। সেনেগাল আর নরওয়ের সঙ্গে গ্রুপে পড়েছে তারা। কোচ দিদিয়ের দেশোঁর জন্যও এই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ—শোনা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তিনি চাইবেন শেষটা ভালোভাবে করতে। এই ম্যাচটা তার জন্য একটা ভালো পরীক্ষা, দল কোথায় দাঁড়িয়ে আছে সেটা বোঝার।
তবে দুই দলই পুরো শক্তিতে নামতে পারছে না। চোটের কারণে ব্রাজিলের দলে নেই গ্যাব্রিয়েল, অ্যালিসন বেকার আর অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা। ফ্রান্সের অবস্থাও খুব আলাদা নয়—বারকোলা, কুন্দে, সালিবা আর মানু কোনে খেলতে পারছেন না।
ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স মানেই একটা আলাদা উত্তেজনা। এই লড়াইয়ে যেমন স্কিল থাকে, তেমনি থাকে শারীরিক শক্তির লড়াইও। ইতিহাস বলছে, দুই দলই প্রায় সমানে সমান। ফিফা স্বীকৃত ম্যাচে ১৫ বার দেখা হয়েছে—ব্রাজিল জিতেছে ৬ বার, ফ্রান্স ৫ বার, আর বাকি ম্যাচগুলো ড্র।
তবে সাম্প্রতিক বড় আসরে ফ্রান্সের ধারাবাহিকতা নজর কাড়ার মতো। তারা শেষ দুই বিশ্বকাপেই ফাইনালে উঠেছে—একবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার-আপ। অন্যদিকে, ব্রাজিল ২০০২ সালের পর থেকে বারবার প্রত্যাশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত থমকে গেছে।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটা শুধু প্রীতি ম্যাচ নয়—দুই দলের জন্যই একটা বার্তা দেওয়ার সুযোগ। ব্রাজিল চাইবে আবার নিজেদের ছন্দে ফিরতে, আর ফ্রান্স চাইবে তাদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।
সম্ভাব্য একাদশ:
ব্রাজিল (৪-২-৩-১): এদেরসন; ওয়েসলি, ব্রেমার, মার্কিনহোস, দানিলো; আন্দ্রে সান্তোস, কাসেমিরো; রাফিনিয়া, মাথেউস কুনহা, ভিনিসিয়াস জুনিয়র; জোয়াও পেদ্রো।
ফ্রান্স (৪-২-৩-১): মাইক মাইনান; মালো গুস্তো, কোনাতে, উপামেকানো, দিনিয়ে; চুয়ামেনি, কান্তে; দুয়ে, ওলিসে, দেম্বেলে; এমবাপ্পে।

Social Plugin