এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে। ইসরায়েল সম্প্রতি ইরানের দুটি অসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা এবং একটি ইস্পাত কারখানায় হামলা চালানোর পর তেহরান কড়া সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই হামলার জবাব দিতে ইসরায়েলকে “চড়া মূল্য” চোকাতে হবে। শুধু তাই নয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর তরফেও সতর্কবার্তা এসেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের জ্বালানি পরিকাঠামোতে আঘাত করে “আগুন নিয়ে খেলছে”।
তবে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, আরদাকানের ‘ইয়েলো-কেক’ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা হলেও কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাইরে ছড়ায়নি। একইসঙ্গে খোন্দাবের ভারী পানি উৎপাদন কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মাটিতে সেনা নামানো ছাড়াই নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে। তাঁর মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না—কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর নিষ্পত্তি সম্ভব।
কূটনৈতিক স্তরেও তৎপরতা বাড়ছে। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যাচ্ছেন। সেখানে মিশর, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।
এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব বলছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত দেশে ১,১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩,৩১৫। পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ, এই সংখ্যাই তার প্রমাণ দিচ্ছে।

Social Plugin