শনিবার এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আবার ক্রিকেট ফিরল। অনেকদিনের অপেক্ষার পর, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আর সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ম্যাচ দিয়েই শুরু হলো নতুন আইপিএল মরশুম। এতদিন ধরে অনিশ্চয়তা আর নানা রকম আলোচনা চলার পর অবশেষে মাঠ খুলল, আর শুরুটা ছিল বেশ শান্ত-সাবলীল। ঢোকার ব্যবস্থাও এবার অনেক গুছিয়ে করা হয়েছে, তাই প্রথম থেকেই কোনও বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি।
২০২৫ সালের ৪ জুনের সেই মর্মান্তিক পদদলিত হওয়ার ঘটনা এখনও অনেকের মনে টাটকা। আরসিবির জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই ১১ জন মানুষের মৃত্যু—ঘটনাটা এই মাঠের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। অনেকেই ভাবছিলেন, আদৌ আবার এখানে ম্যাচ হবে কি না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনা হয়েছে, পরিকল্পনাও হয়েছে অনেক বেশি কড়া। সেই কারণেই আবার এই ঐতিহাসিক মাঠে ক্রিকেট ফিরতে পেরেছে।
ম্যাচের আগে ২৩ মার্চ দু’দফায় মহড়াও করা হয়েছিল, যাতে সবাই প্রস্তুত থাকে। তবুও বাস্তব ম্যাচ মানেই আলাদা চাপ, তাই কিছুটা দুশ্চিন্তা থেকেই গিয়েছিল।
একজন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বাইরে ভিড় সামলাতে যথেষ্ট পুলিশ রাখা হয়েছিল, বিশেষ করে গেটের কাছে যাতে জটলা না হয়, সে দিকেও নজর ছিল। ম্যাচ শুরুর চার ঘণ্টা আগেই গেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা বেশ কাজে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
আরসিবির তরফে বেশিরভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতি অনেক সহজ করেছে। আগে যেমন হুট করে টিকিটের আশায় ভিড় জমে যেত, রাস্তা পর্যন্ত ভরে যেত মানুষে—এবার সে দৃশ্য দেখা যায়নি। মোট ৩৫ হাজার আসনের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার টিকিটই বিক্রি হয়েছে।
ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘চিরকাল আমাদের হৃদয়ে’—পুরো স্টেডিয়ামটাই তখন যেন একটু থমথমে।
তবে ম্যাচের শুরুতেই বিতর্ক এসে হাজির। হেনরিখ ক্লাসেন বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ দেন। প্রথমে সব ঠিকই মনে হচ্ছিল, কিন্তু রিপ্লে দেখার পর সন্দেহ তৈরি হয়। অনেকেরই মনে হয়েছে, ক্যাচ নেওয়ার সময় সল্টের শরীর হয়তো বাউন্ডারি লাইনে লেগে গিয়েছিল। তবুও আম্পায়ার আউট দিয়ে দেন।
ক্লাসেন সেটা মেনে নিতে পারেননি। চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়, কিন্তু তাতেও খুব একটা সন্তুষ্ট হননি। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত মুখেই মাঠ ছাড়েন।
ঘটনাটা ঘটে সানরাইজার্সের ইনিংসের ১৪তম ওভারে। শুরুতেই তিন উইকেট পড়ে যাওয়ায় দল চাপে ছিল। সেখান থেকে ঈশান কিশান আর ক্লাসেন মিলে ৯৭ রানের একটা গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু ওই সিদ্ধান্তটাই যেন গতি বদলে দিল।
রিপ্লেতে স্পষ্ট কিছু বোঝা না গেলেও এক কোণ থেকে দেখে মনে হচ্ছিল বাউন্ডারির দড়িটা নড়েছিল। তবুও থার্ড আম্পায়ার রোহন পণ্ডিত খুব বেশি সময় না নিয়েই আউট দিয়ে দেন। এই সিদ্ধান্তে ক্লাসেন তো বটেই, সানরাইজার্সের সমর্থকরাও হতভম্ব হয়ে যান।
ক্লাসেন নিজে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। ম্যাচের পর অনেকেই বলছেন, সিদ্ধান্তটা ঠিক হয়নি। অনেকের মতে, ক্লাসেন যদি তখন ক্রিজে থাকতেন, সানরাইজার্স হয়তো আরও বড় রান তুলতে পারত।

Social Plugin