উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্তি কেন বেড়েছে? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এখানে আরএসএস খুবই সক্রিয়।এছাড়াও পরিচয় রাজনীতি একটি ফ্যাক্টর। রাজবংশী, আদিবাসী , গোরখা—এই পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি এই অঞ্চলে অন্যতম বিষয়। বিজেপি বারবার বার্তা দিয়েছে,“আপনার পরিচয়কে স্বীকৃতি দিচ্ছি”। পাশাপাশি "কেন্দ্রের সঙ্গে থাকলে উন্নয়ন হবে”-এই প্রতিশ্রুতিও কাজ দিয়েছে। এছাড়া রয়েছে সীমান্ত ও নাগরিকত্ব ইস্যু। ফলে উত্তরবঙ্গে বিজেপি দ্রুত জমি পায়। আর একটি অন্যতম কারণ এই অঞ্চলের চা-বাগানগুলিতে বরাবরই বাম সংগঠনের শক্তিশালী ঘাটি ছিল। ফলে একটি গ্যাপ তৈরি হয়। সেই গ্যাপকে কাজে লাগায় আরএসএস ও বিজেপি। তৃণমূল বিজেপির জমি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে। সোজা কথায় ওয়েলফেয়ার রাজনীতি দিয়ে। কোবিডের সময় তৃণমূল দলের তরফে চা-বাগানগুলোতে শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় ব্লক-স্তরে শক্তিশালী সংগঠন তৈরির দিকে মন দেয় তৃণমূল। “বাইরের দল” বনাম “বাংলার দল” এই ন্যারিটিভ ছড়িয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে হারানো জমি কিছুটা ফেরত আনার চেষ্টা করে।
পরিচয় রাজনীতি যেমন রাজবংশী, কামতাপুর, গোর্খাল্যান্ড ইস্যু। এর পাশাপাশি“বঞ্চিত অঞ্চল” ধারণা এই অঞ্চলে রয়েছে। উত্তরবঙ্গকে দূয়োরানির চোখে দেখে কলকাতা কেন্দ্রিক রাজনীতি। এই ধারনা অনেকের মনেই ক্ষোভ তৈরি করে। বিজেপিএই ইস্যুগুলোকে তুলে ধরে।পাশাপাশি চা শ্রমিকদের অসন্তোষ।
এবার আসা যাক ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ (সাধারণভাবে ৮টি জেলা)–এর জেলা ভিত্তিক ফলাফল। কোচবিহার মোট ৯ টি আসনের মধ্যে বিজেপি পায় ৬ টি। তৃণমূল ৩ টি। বিজেপিএখানে “বিকল্প শক্তি” হিসেবে উঠে আসে কারণ উত্তরবঙ্গের (বিশেষ করে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি) বড় অংশের ভোটার রাজবংশী সম্প্রদায়। অনন্ত মহারাজের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। যিনি বর্তমানে বিজেপি সমর্থিত রাজ্যসভার সদস্য। আলিপুরদুয়ারের মোট আসন ৫ টি। তার মধ্যে বিজেপির ঝোলায় যায় ৪টি। তাসীদের ভোট বিজেপি পায়। জলপাইগুড়ি মোট আসন ৭ টির মধ্যে বিজেপি ৫ আর তৃণমূল ২ টি আসন পায়। দার্জিলিংয়ের ৫ টি আসনই বিজেপি পায়। পাহাড় পুরো দখল বিজেপির। উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূল এগিয়ে থাকে। মোট আসন ৯টির মধ্যে ৭ টি তৃণমূলের দখলে যায়। মুসলিম-প্রধান এলাকা চোপড়া ও ইসলামপুরে তৃণমূল শক্তিশালী। মালদায়ে এগিয়ে থাকে তৃণমূল। ১২ টি আসনের মধ্যে পায় ৮ টি। উত্তরবঙ্গে ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩০ আর তৃণমূল ২৪ টি পায়।

Social Plugin