ট্রাম্পদের দাবি ওড়াল তেহরান, কোনও কথাই হয়নি

আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে এখন বেশ ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দু’পক্ষই একেবারে উল্টো কথা বলছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আলোচনা এগোচ্ছে। আর তেহরানের বক্তব্য, তেমন কিছুই হচ্ছে না।

সোমবার রাতেই এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে ইরান। তাদের কথায়, যুদ্ধ শুরুর পর গত ৩১ দিনে আমেরিকার সঙ্গে কোনও সরাসরি কথা হয়নি। শুধু একবার আলোচনায় বসার প্রস্তাব এসেছে ওদিক থেকে।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে এই কথাই জানান। তিনি লেখেন, এই সময়ের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি, তবে আমেরিকা থেকে বসার অনুরোধ এসেছে। পাশাপাশি পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মাধ্যমে কিছু প্রস্তাবও পৌঁছেছে তাদের কাছে। কিন্তু তাতে সাড়া দেওয়ার কোনও তাড়া নেই—এ কথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

একই পোস্টে ইরানের অবস্থান আরও খোলসা করে বলা হয়। তাদের অভিযোগ, আমেরিকা এখনও সামরিক চাপ বজায় রেখেছে। আর সেই পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করাই এখন অগ্রাধিকার। আগের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তারা জানায়, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’বার কূটনৈতিক পথে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ঠকতে হয়েছে তাদের। সেই অভিজ্ঞতা সহজে ভোলার নয়। ইঙ্গিতটা স্পষ্টভাবেই আগের পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার দিকেই।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত একটা সমঝোতায় পৌঁছতে চাইছেন। তবে সেই আলোচনা আদৌ কতদূর এগিয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দাবি, তাদের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের বেশির ভাগই নাকি ইরান মেনে নিয়েছে। কিন্তু তেহরান বলছে ঠিক উল্টো কথা—তাদের মতে, ওই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়।

গত কয়েক দিন ধরে আমেরিকার কিছু সূত্র থেকে শোনা যাচ্ছিল, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে নাকি যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এতদিন এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি ট্রাম্প। শুধু বলেছিলেন, কয়েক জন ‘ভাল মানুষের’ সঙ্গে কথা চলছে। এবার তিনি নামও প্রকাশ্যে এনেছেন। গালিবাফ আসলে কী করতে চাইছেন, সেটা দ্রুত বুঝে নিতে চায় আমেরিকা—এ কথাও জানিয়েছেন তিনি।