ওয়াংখেড়েতে এদিন জমেছিল পুরো রানের লড়াই। আগে ব্যাট করে কলকাতা নাইট রাইডার্স তোলে ২২০। কিন্তু সেই রানও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হল না। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৫ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। আইপিএলে এত বড় রান তাড়া করে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
মুম্বইয়ের জন্য এই শুরুটা আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বছর পর তারা প্রথম ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করল। অন্যদিকে, এই মাঠে কেকেআরের খারাপ রেকর্ড যেন কাটছেই না—এখানে তাদের হারের তালিকাই লম্বা হচ্ছে।
পিচটা এমন ছিল, আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল রান উঠবে। কিছুদিন আগেই এই মাঠে বিশাল রানের ম্যাচ হয়েছে। সেই ধারাই বজায় রইল—দু’দলের মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চারশো রান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কেকেআরের শুরুটা বেশ ঝরঝরে। অজিঙ্ক রাহানে আর ফিন অ্যালেন পাওয়ার প্লে-তেই চাপ তৈরি করে দেন। অ্যালেনকে বিশেষ করে বেশ আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল। প্রথম ছ’ওভারে উইকেট না হারিয়ে ভালোই রান তুলে ফেলে কলকাতা।
প্রথম ধাক্কাটা দেন শার্দূল ঠাকুর। গতি আর ভ্যারিয়েশন কাজে লাগিয়ে অ্যালেনকে ফেরান। অ্যালেন ১৭ বলে ৩৭ করে ফিরে যান। এরপর ক্যামেরন গ্রিনও বেশি দূর এগোতে পারেননি। কিছুটা সময়ের জন্য কেকেআরের রান তোলার গতি কমে যায়।
রাহানে অর্ধশতরান করার পরও বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। তবে এরপর অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এসে আবার গতি বাড়ান। বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই খেললেন তিনি। ২৯ বলে ৫১ রান করে আউট হন। রিঙ্কু সিংহ শেষ দিকে থেকে কিছু দরকারি রান যোগ করেন। সব মিলিয়ে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২০—মন্দ নয়, কিন্তু এই পিচে হয়তো একটু কমই।
এরপর শুরু রোহিত শর্মার শো। প্রথম দু’ওভার দেখে-শুনে খেললেও তারপর আর থামেননি। রিকেলটনের সঙ্গে মিলে আক্রমণ শুরু করেন। এক ওভারেই একাধিক ছক্কা—সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
মাত্র ২২ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রোহিত। কেকেআরের পেসারদের গতি ব্যবহার করে সহজেই বাউন্ডারি খুঁজে নিচ্ছিলেন। স্পিনারদের বিরুদ্ধেও কোনও অসুবিধা হয়নি। বরুণ চক্রবর্তীকে বিশেষভাবে নিশানা করেন তিনি। সুনীল নারাইনকেও ছেড়ে কথা বলেননি রিকেলটন।
কেকেআরের বোলিংয়ে ধার ছিল না, পরিকল্পনাও ঠিকঠাক কাজে আসেনি। তার উপর ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুল—সহজ ক্যাচও হাতছাড়া হয়েছে। এত বড় ম্যাচে এসব হলে চাপ তো বাড়বেই।
রোহিতের ব্যাটিংয়ে আলাদা করে চোখে পড়ল তাঁর ফিটনেস। অনেকটাই হালকা হয়ে খেলছিলেন, শটগুলোও আসছিল অনায়াসে। ৩৮ বলে ৭৮ রান করে তিনি আউট হন, তবে তখন ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয়।
রিকেলটনও দারুণ খেললেন—৪৩ বলে ৮১। যদিও শেষটা রান আউট হয়ে, কিন্তু তার আগেই কাজ সেরে ফেলেছিলেন। এরপর বাকি কাজটা সহজেই শেষ করেন তিলক, হার্দিকরা।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা খুব একটা টানটান জায়গায় যায়নি। রোহিত শুরুতেই যে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, তার উপর দাঁড়িয়েই সহজ জয় তুলে নেয় মুম্বই। আর কেকেআরের জন্য আবারও একই গল্প—ভালো শুরু, কিন্তু শেষটা ঠিক মতো টানা গেল না।

Social Plugin