রবিবার ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ গিয়ে পড়েছে দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি রাসায়নিক কারখানায়। সরাসরি কেউ আহত হননি ঠিকই, কিন্তু আঘাত লাগার পরই কারখানায় আগুন ধরে যায়। সেই সঙ্গে ভেসে ওঠে আরেকটা বড় আশঙ্কা—ভেতরে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়তে পারে কি না।
ঘটনাটা ঘটে একটি শিল্প এলাকায়, ইরানের সেদিনের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে। এটিকে সেই দিনের ষষ্ঠ হামলা বলা হচ্ছে। এরপর আরও কয়েক দফা আক্রমণ হয়। তার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণের শহর বিয়ারশেবায় আঘাত হানলে অন্তত ১১ জন হালকা জখম হন।
যে কারখানায় আঘাত লাগে, সেটি মূলত সার তৈরির সঙ্গে যুক্ত। সেখানে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। সম্ভাব্য রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার কথা মাথায় রেখে ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ দ্রুত সতর্কবার্তা দেয়—বিয়ারশেবার দক্ষিণে নিওত হোভাব শিল্প এলাকার আশেপাশে যারা থাকেন, তাঁদের ঘরের ভেতরেই থাকতে বলা হয়।
কিছু সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পরিস্থিতি আপাতত নিরাপদ, সাধারণ মানুষের জন্য আর তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। তাদের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—রাস্তা খুলে দেওয়া যাবে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজকর্মও শুরু করা যেতে পারে। যেসব কর্মীকে তড়িঘড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাঁদেরও এলাকা ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে আগুন নেভানোর কাজে শুধু দমকল নয়, ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’-এর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও যোগ দেয়। তারা মূলত ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক সংরক্ষণাগারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কাজ করছিল, যাতে ভেতরের পদার্থ বাইরে বেরিয়ে না আসে।
দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই সংরক্ষণ পাত্রগুলোতে কীটনাশক রাখা ছিল। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান তৈরির সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ‘আদামা’ জানিয়েছে, তাদের ‘মাখতেশিম’ কারখানাতেই এই আঘাত লেগেছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনা সংস্থা ‘সিনজেনটা গ্রুপ’-এর অংশ। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা, সেটা তখনই স্পষ্ট করে বলা যায়নি।
ঘটনার পর জরুরি পরিষেবা ও পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানায়, অন্তত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত।

Social Plugin