অভিষেকের প্রচার কর্মসূচিতে জনসভা, নন্দীগ্রামে জিততে মরিয়া তৃণমূল

পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের প্রচারে এবার নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর শুরুটা হচ্ছে নন্দীগ্রাম থেকেই। দলীয় সূত্রে খবর, চলতি মাসেই তিনি এই জেলায় একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন, মূল লক্ষ্য সংগঠনকে আরও গোছানো আর ভোটের আগে মাটির স্তরে বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

নন্দীগ্রাম এমনিতেই রাজ্যের সবচেয়ে চর্চিত কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। সেই জায়গাতেই তৃণমূল প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে, যিনি একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তেই রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

অভিষেকের কর্মসূচি বেশ টাইট। জানা যাচ্ছে, ২৫ মার্চ নন্দীগ্রামে একটি কর্মীসভা দিয়ে তিনি প্রচার শুরু করবেন। সেখানে স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ভোটের আগে কীভাবে মাঠে নামতে হবে, সেই দিকনির্দেশ দেবেন। এরপর ২৭ মার্চ পাঁশকুড়া পূর্বে একটি জনসভা করার কথা রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরাই প্রধান লক্ষ্য। আর ৩০ মার্চ কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় একটি ঘরোয়া বৈঠক করবেন তিনি, যেখানে মূলত ভোটের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।

এই সফর ঘিরে জেলা তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিষেকের উপস্থিতি সংগঠনে নতুন গতি আনতে পারে।

পেছনের ছবিটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ২০২১ সালে এই নন্দীগ্রামেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি লড়েছিলেন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। এবারের লড়াই তাই আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শুভেন্দু এবার ভবানীপুর থেকেও লড়াই করার কথা বলছেন, পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও নিজের জমি ধরে রাখতে চাইছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের হিসাব আলাদা। তারা এমন একজনকে সামনে এনেছে, যিনি এলাকার ভেতরের রাজনীতি, মানুষের মনোভাব—সবকিছু কাছ থেকে চেনেন। পবিত্র কর সেই জায়গাতেই ফিট করেন বলে দলের একাংশের বিশ্বাস।

সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রাম আবারও জমে উঠতে চলেছে। আর সেই লড়াইয়ে এবার সরাসরি নেমে পড়ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।