শুক্রবারের ম্যাচটা নিয়ে উত্তেজনা থাকাটাই স্বাভাবিক। রাজস্থান রয়্যালস আর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু—দুটো দলই এখন দারুণ ছন্দে। বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে নামার আগে দু’পক্ষই জানে, এই ম্যাচটা টেবিলের হিসেবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই মানসিক দিক থেকেও।
রাজস্থানের কথা বললে শুরুতেই আসে যশস্বী জয়সওয়াল আর বৈভব সূর্যবংশীর নাম। এই দুই বাঁহাতি ওপেনার শুরুতেই ম্যাচের গতি বদলে দিচ্ছেন। প্রথম কয়েক ওভারেই এমন চাপ তৈরি করছেন, যেখান থেকে প্রতিপক্ষের পক্ষে ফেরা কঠিন হয়ে যায়। তিনটে ম্যাচেই সেই ছবিটাই দেখা গেছে। সবক’টিতে জিতে তারা এখন তালিকার একেবারে ওপরে, ছ’পয়েন্ট আর দুর্দান্ত নেট রান রেট নিয়ে।
তবে রাজস্থানের ব্যাটিং পুরোপুরি ওপেনারদের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে—এ কথাও বলা যায়। মাঝের সারির ব্যাটাররা এখনো সেইভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। ধ্রুব জুরেল বা রিয়ান পরাগ মাঝে মধ্যে রান পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু শিমরন হেটমায়ার এখনো নিজের ছন্দে ফেরেননি। ফলে শুরুটা যদি ভালো না হয়, তখন কীভাবে সামলাবে দল—সেটা একটা বড় প্রশ্ন।
বোলিং কিন্তু তাদের শক্ত জায়গা। জোফ্রা আর্চার, নানদ্রে বার্গার, সন্দীপ শর্মা—তিনজনই ভালো ছন্দে আছেন। সঙ্গে স্পিনে রবি বিষ্ণোই বেশ নিয়ন্ত্রণ রেখে বল করছেন। সব মিলিয়ে দলটা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে বেঙ্গালুরুও কিন্তু কম যাচ্ছে না। বিরাট কোহলি এখনও একইরকম ধারালো—আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ালেও তার ব্যাটে তার ছাপ নেই। শুরুতে ফিল সল্ট আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছেন, আর তিন নম্বরে দেবদত্ত পাডিক্কাল আবার নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। টানা অর্ধশতক করে তিনি দলের ভরসা হয়ে উঠছেন।
মাঝের সারিতেও শক্তি আছে। অধিনায়ক রজত পাটিদার নিজের মতো করে খেলছেন, আর টিম ডেভিড তো যেকোনো সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন—গত ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলেছে।
তবে বোলিং নিয়ে একটু চিন্তা থাকতেই পারে। জশ হ্যাজেলউড না থাকায় নতুন মুখ জ্যাকব ডাফি সুযোগ পেয়েছেন এবং মন্দ করছেন না। ভুবনেশ্বর কুমার আছেন, কিন্তু আক্রমণটা খুব ধারালো বলা যাবে না। স্পিনে ক্রুনাল পান্ডিয়া আর সুয়াশ শর্মা মাঝের ওভারগুলো সামলাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু শুরুতেই উইকেট তুলতে না পারলে চাপ বাড়ে।
এই ম্যাচে আসল লড়াইটা সম্ভবত শুরুতেই। জয়সওয়াল-সূর্যবংশী জুটি যদি দ্রুত রান তুলতে শুরু করে, তাহলে বেঙ্গালুরুর বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যাবে। আবার উল্টোদিকে, কোহলি-সল্ট যদি ছন্দে থাকে, তাহলে রাজস্থানের বোলারদেরও পরীক্ষা দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে যেমনই হোক, মাঠে নামার পর এটা একেবারে সমানে সমান লড়াই হওয়ারই সম্ভাবনা। আর এমন ম্যাচে শেষ হাসি কে হাসবে, সেটা আগেভাগে বলা সত্যিই কঠিন।

Social Plugin