বিজেপিকে একজোট হয়ে রুখতে হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মুর্শিদাবাদে গিয়ে আবারও সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, আগে মানুষ—তারপর ধর্ম। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় থাকুক, কিন্তু সেটাকে রাজনীতির হাতিয়ার করা উচিত নয়। বিজেপি ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে বলেই অভিযোগ তাঁর। সেই কারণেই তিনি একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেন।

রবিবার সামশেরগঞ্জ ও জিয়াগঞ্জে পরপর দু’টি সভা করেন তৃণমূল নেত্রী। দলের প্রার্থী নুর আলম ও শাওনি সিংহ রায়ের সমর্থনে এই সভাগুলি থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—ধর্মের নামে দাঙ্গা বা বাংলা ভাগের রাজনীতি তিনি মেনে নেবেন না। তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাসও ছিল স্পষ্ট। বলেন, বাংলা মাথা নোয়াবে না, বরং লড়াই চালিয়ে যাবে।

বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতার দাবি, আগামী বিধানসভা ভোটে তাদের হার নিশ্চিত। এমনকি তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাই দিল্লির রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নেবে। তাঁর এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মাঠ।

কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙ্গা করতে এবার সরাসরি আক্রমণের সুরেই নামলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপির খারাপ সময় এখন আর দূরে নয়। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নার শ্যামসুন্দরে জনসভা থেকে তিনি বলেন, ৪ মে-র পর বিজেপি নেতারা পরিস্থিতি বুঝে উঠতেই পারবেন না। এই সভা ছিল ভিড়ে ঠাসা, আর সেখান থেকেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট বার্তা দেন—শুধু হারানো নয়, বিজেপি প্রার্থীদের জমানত জব্দ করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অনেক জায়গায় বিজেপি আসলে সিপিএমের ভরসাতেই টিকে আছে। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে সেই পুরনো সিপিএম-ঘনিষ্ঠ শক্তিকেই সমর্থন করা। অভিষেকের কথায়, লড়াইটা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, কাজের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। মানুষের কাছে সেই হিসেবেই ভোট চাইতে হবে। তিনি মনে করছেন, ভোটের প্রথম দফা থেকেই বিজেপির ধাক্কা খাওয়া শুরু হবে। আর শেষ পর্যন্ত গিয়ে সেই ধাক্কাই তাদের ভরাডুবিতে গড়াবে।

ভোটার তালিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে হিন্দু-মুসলমান, দুই সম্প্রদায়েরই ভোটার বাদ যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এখানেই কটাক্ষ করে বলেন, যাদের ভোটে বিজেপি জিতেছিল, আজ তারাই যদি ‘অনুপ্রবেশকারী’ হয়ে যায়, তাহলে সেই যুক্তিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও দায় এড়ানোর উপায় নেই।

দিল্লির নেতাদের নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। বলেন, বাইরে থেকে লোক এনে মিছিল-মিটিং করে ভোট জেতার আশা করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবটা আলাদা।

ধর্ম নিয়ে সহাবস্থানের কথাও তুলে ধরেন মমতা। বেলুড় মঠের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে যেমন বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান দেখা যায়, তেমনই সমাজেও সেই ভাবনা থাকা দরকার। নিজের বাড়িতে কালীপুজোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য ধর্মকে অসম্মান করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

কর্মসংস্থান ও পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। অভিযোগ, অন্য রাজ্যে গিয়ে বাঙালি শ্রমিকদের অপমানের মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে বাইরে থেকে আসা শ্রমিকরা নিশ্চিন্তে কাজ করছেন। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি।

ভবানীপুরে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাও তুলে ধরেন মমতা। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে লোক এনে গোলমাল পাকানো হয়েছিল। এমনকি তাঁর বাড়ির সামনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় মানুষই তার প্রতিবাদ করেছেন বলে জানান।

শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল সোজাসাপ্টা—প্রার্থী কে, সেটা না ভেবে তৃণমূলকে ভোট দিন। তাঁর কথায়, সব কেন্দ্রেই তিনি নিজেই প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।