ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স আর পাঞ্জাব কিংস মুখোমুখি হলেই খেলার পাশাপাশি আরেকটা আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়। গত কয়েক বছরে সেটা যেন নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে। একদিকে শাহরুখ খান, অন্যদিকে প্রীতি জিন্টা—পর্দার সেই ‘বীর-জারা’ জুটির রেশ গ্যালারিতেও টের পাওয়া যায়। ক্রিকেট আর বিনোদনের মিশেলে একটা অন্যরকম আবহ তৈরি হয়, যা দর্শকরা বেশ উপভোগই করেন।
সোমবারের ম্যাচ নিয়েও সেই কৌতূহল আছে। যদিও প্রীতি জিন্টা থাকবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে শাহরুখ মাঠে থাকতে পারেন বলেই খবর। টানা দুই হার মাথায় নিয়ে নামতে যাওয়া কেকেআর শিবিরে তাই একটু হলেও আশার হাওয়া—হয়তো তাঁর উপস্থিতিতে দলটা নতুন করে চাঙ্গা হবে।
রাহানের নেতৃত্বে দলটা এই মুহূর্তে বেশ চাপে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে বড় রান তুলেও শেষরক্ষা হয়নি, আর হায়দরাবাদের কাছে তো ব্যাটিংই ভেঙে পড়েছিল। সব মিলিয়ে দল এখনও ঠিক জমাট বাঁধতে পারেনি, সেটা চোখে পড়ছে। তাই পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে নামার আগে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, হারটাকে আর লম্বা হতে না দেওয়া।
এই পরিস্থিতিতে দলে কিছু বদল এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কোচ অভিষেক নায়ার কী ভাবছেন, সেটাই এখন দেখার। ক্যামেরন গ্রিন এখনও পর্যন্ত নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। ব্যাটে রান নেই, বলও যদি না করেন, তাহলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সেইফার্ট, রাচীন রবীন্দ্র বা রভম্যান পাওয়েলের মধ্যে কাউকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
বরুণ চক্রবর্তীর ফর্ম নিয়েও অস্বস্তি বাড়ছে। সমর্থকদের একাংশের মত, অন্য দলে নতুন মুখেরা সুযোগ পেয়ে ভালো করলে, কেকেআর কেন বিকল্পদের ব্যবহার করবে না? প্রশান্ত সোলাঙ্কি বা দক্ষ কামরার নামও তাই ঘুরছে আলোচনায়।
তার ওপর আবহাওয়াও একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। সোমবার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। যদিও ইডেনের মাঠ দ্রুত খেলার উপযোগী করে তোলার ব্যবস্থা ভালোই, তবু ম্যাচ ছোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। সে অনুযায়ী দুই দলকেই মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে।
এই ম্যাচে আলাদা করে চোখ থাকবে শ্রেয়স আয়ারের দিকে। একসময় কেকেআরের অধিনায়ক, তাঁর হাত ধরেই দল ট্রফি জিতেছিল। এখন তিনি পাঞ্জাবের জার্সিতে। পুরনো দলের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রমাণ করার আলাদা একটা তাগিদ তো থাকবেই, আর সাম্প্রতিক ফর্মও তাঁর পক্ষে কথা বলছে।
পাঞ্জাবের ব্যাটিং বেশ আক্রমণাত্মক। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার—সব জায়গাতেই মারমুখী ব্যাটার। সঙ্গে স্টয়নিসের মতো নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার। বোলিংয়েও তাদের বিকল্প আছে। শুরুতে পেসাররা সাহায্য পেলে অর্শদীপ বা জানসেনদের সামলানো সহজ হবে না। স্পিনে চাহাল তো রয়েছেনই।
যদিও অতীতের পরিসংখ্যান একটু স্বস্তি দিচ্ছে কেকেআরকে। মুখোমুখি লড়াইয়ে তাদের জয়ের সংখ্যাই বেশি। এই তথ্যটাই এখন সমর্থকদের ভরসা—হয়তো এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াবে দলটা।

Social Plugin