এসআইআর নিয়ে রাজ্যের নানা জায়গায় যখন মানুষ ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাম তোলার চেষ্টায় নাজেহাল, ঠিক সেই সময় কোচবিহারে এসে পুরনো ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকেই আবার সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে জনসংখ্যার চরিত্র অনেকটাই বদলে গেছে, আর এতে রাজ্য সরকার নাকি পরোক্ষভাবে মদত দিচ্ছে। যদিও এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য তিনি সভায় তুলে ধরেননি।
রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনি সভা থেকে মোদি বলেন, গত ১৫ বছরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর মতে, যারা অবৈধভাবে ঢুকছে, তারা তৃণমূলের ছত্রছায়া পাচ্ছে, এমনকি পরে তাদের বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গেও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য—দুটোই নাকি ঝুঁকির মুখে।
উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বহু জায়গায় এখনও কাঁটাতার নেই। এই প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি বরাবরই অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে এসেছে। পাল্টা তৃণমূলের বক্তব্য, সীমান্ত রক্ষা করা কেন্দ্রের দায়িত্ব, রাজ্যের নয়। এই টানাপোড়েনের মাঝেই এসআইআর নিয়ে বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাম ফের তোলার চেষ্টা করছেন।
মাছে-ভাতে বাঙালির পরিচয় নতুন কিছু নয়। বাঙালি আর মাছ—দুটো যেন একে অপরের সঙ্গেই জড়িয়ে। কিন্তু সেই মাছই এবার মেদিনীপুরের রাজনীতিতে নতুন রং ধরিয়েছে। শুক্রবার প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা রাজাবাজারে হঠাৎই হাতে রুই মাছ তুলে নেন। তারপর স্লোগান ওঠে—বাঙালি মাছ খাবে। ঘটনাটা চোখে পড়ার মতো ছিল, আর স্বাভাবিকভাবেই চর্চাও শুরু হয়ে যায় চারদিকে। চায়ের দোকান, পাড়ার আড্ডা—সব জায়গাতেই একই প্রশ্ন ঘুরতে থাকে, বিজেপি এলে তবে কি মাছ নিয়েও কিছু বাধা আসবে? এই আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার পাল্টা ছবি দেখা গেল। মেদিনীপুর শহরের কোতোয়ালি বাজারে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত নিজেই মাছের দোকানে বসে পড়লেন। পেশায় অঙ্কের শিক্ষক শঙ্করবাবুর হাতে তখন চিংড়ি মাছ। হাসতে হাসতেই বললেন, মাছ খাবে সবাই—এতে কোনও বাধা নেই। সব মিলিয়ে, মাছ এখন আর শুধু খাবার নয়, ভোটের মাঠেও সেটাই হয়ে উঠেছে নতুন প্রতীক।
এই পরিস্থিতিতে মোদির বক্তব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কাজ চলছে। শুধু ভারত নয়, অন্য দেশও নাকি একই পথে হাঁটছে। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে উল্টো ছবি—এখানে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।
এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা আটকাতেই নাকি তৃণমূল এর বিরোধিতা করছে। পাশাপাশি সিএএ নিয়েও রাজ্যের অবস্থানকে তিনি আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, এতে প্রকৃত শরণার্থীদের অধিকার খর্ব হচ্ছে, আর রাজনৈতিক স্বার্থেই এই অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
সভা জুড়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই বারবার জোর দেন মোদি। তাঁর মতে, এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে। সেই জায়গা থেকেই বিজেপিকে ভরসা করার আহ্বান জানান তিনি।
তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে সিন্ডিকেট রাজ, সম্পত্তি দখল, সন্দেশখালি থেকে শুরু করে নানা ইস্যুও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটের দিন সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে থাকার পরামর্শ দেন এবং বলেন, ভোটের পর সব কিছুর হিসাব হবে। দুর্নীতির অভিযোগে যাদের নাম জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন নিজের মতো কাজ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মালদহের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল—যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। তাঁর কথায়, এটা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটা অরাজক পরিস্থিতির ইঙ্গিত।
সভায় মহিলা ভোটারদের দিকে নজর রেখে নারী ক্ষমতায়নের কথাও বলেন মোদি। পাশাপাশি যুবকদের টানতে চাকরি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। উত্তরবঙ্গে উন্নয়ন ঠিকমতো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Social Plugin