বিজেপি মুছে দেওয়ার ডাক, ‘এবার দুরন্ত খেলা হবে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গত বিধানসভা ভোটের সময় ফুটবল হাতে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলতেন, “খেলা হবে”। সেই স্লোগান তখন প্রায় প্রতিটি সভার পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছিল। এবারও ভোটের আবহে একাধিক বড় সভা সেরে ফেলেছেন তিনি। জোড়াফুল শিবির ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে “যতই কর হামলা, আবার জিতবে বাংলা” স্লোগান নিয়ে। এর মধ্যেই শুক্রবার ফের পুরনো সুরেই বার্তা দিলেন মমতা—“খেলা এবারও হবে, আর হবে জমিয়ে।”

হাজার হাজার মানুষের সামনে হাত তুলে আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বললেন, “আমরাই আবার ক্ষমতায় ফিরব।” সেদিন তিনি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর এবং মালদহের মালদহ কেন্দ্র এই তিন জায়গায় সভা করেন। প্রতিটি মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তিনি।

কীভাবে সেই “খেলা” হবে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। মমতার কথায়, “যে বিজেপি মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাদের এবার জবাব দেবে বাংলার মানুষ।” তিনি সরাসরি আবেদন করেন, “হয়রানি, বঞ্চনার জবাব দিতে হবে। ইভিএমে বোতাম টিপে দিন—রাজনীতির ময়দান থেকে বিজেপিকে সরিয়ে দিন।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেনে এনে তিনি বলেন, “২০২৪ সালে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, আজ যদি তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলা হয়, তাহলে সেই ভোটে যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি কী? আগে নিজের পদত্যাগ করুন, তারপর অন্যকে দোষ দিন।”
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়েও সরব হন তিনি। আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি বেঁচে থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে দেব না। ভয় পাবেন না।”

বিজেপিকে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, “ওরা বিভাজনের রাজনীতি করে। মা আর আম্মার মধ্যে ফারাক করতে চায়। আমাদের ধর্ম মানবধর্ম।” পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন, বাংলা ভাগের চেষ্টাও নাকি চলছে—বিহারের কিছু জেলার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রাজ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তৃণমূলের তরফে আগেই অভিযোগ উঠেছে, ভোটে সুবিধা পেতে বাইরে থেকে ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। মমতার কথায়, “বিহারের মতো করে বাংলা দখলের ছক কষছে বিজেপি। আসল ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। সামনে না পেরে পিছন থেকে খেলা শুরু করেছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, আগের মতো এবারও বাইরে থেকে টাকা ও লোক আনা হচ্ছে, এমনকি কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “সিআরপিএফের গাড়িতে করে টাকা আসছে, ট্রেনে করে অস্ত্র ঢুকছে—সব খবর আমার কাছে আছে। সময় হলে জানাব।”

এইসব অভিযোগের মাঝেও নিজের সরকারের কাজের ওপর ভরসা রাখছেন তিনি। মমতার বক্তব্য, “গত পাঁচ বছর আমি বাংলাকে আগলে রেখেছি। এবার ভোটের সময় আপনারা আমাকে আগলে রাখবেন। তাতে মানুষের জন্য আরও জোরে লড়তে পারব।”
শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “অতিরিক্ত উত্তেজিত হবেন না। কোথাও বাধা পেলে প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে মহিলারা ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নামুন।”