ডুয়ার্সে সম্প্রীতির বার্তা দিতেই পথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটলেন চার্চের ফাদার, মসজিদের ইমাম, বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আর হিন্দু পুরোহিত। বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁরা একসুরে বললেন, বাংলার এই মিলেমিশে থাকার পরিবেশ যেন বজায় থাকে, ধর্মের নামে বিভাজন বা হানাহানি কারও কাম্য নয়।
বহু জাতি-জনজাতির সহাবস্থানের জন্য ডুয়ার্সকে অনেকেই ‘মিনি ভারত’ বলেন। বুধবার সন্ধ্যায় মঙ্গলবাড়ি থেকে চালসা মোড় পর্যন্ত পদযাত্রায় সেই বৈচিত্র্যের ছবিটাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল। মমতাকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন আদিবাসী, নেপালি, রাভা, রাজবংশী—বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। ধামসা-মাদলের তালে নাচ, বৈরাতি সুর—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ। বেলুন উড়ল আকাশে, আর শেষ পর্যন্ত চালসায় পৌঁছে জনজাতি শিল্পীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচেও যোগ দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
দু’বছর আগে পয়লা বৈশাখে যে পথ ধরে হেঁটেছিলেন, এদিনও সেই পথেই ছিল মানুষের ঢল। দুপুর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে। আকাশ মেঘলা, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি—তবু উৎসাহে ভাটা পড়েনি। ৭০ বছরের ফতেমা খাতুন সকালে ঘরের কাজ সেরে নাতির হাত ধরে চলে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, “দিদি আসবেন, আর আমি ঘরে বসে থাকব—এটা কী করে হয়!” নাগরাকাটার বাসিন্দা ফতেমা বার্ধক্যভাতা পান। আগে ছেলের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন অন্তত নিজের ছোটখাটো খরচ নিজেই সামলাতে পারেন। নাতির আবদারও মেটাতে পারেন, সেটাই তাঁর কাছে বড় স্বস্তি।
একইভাবে সফিয়া খাতুনও বলছিলেন, গরিব মানুষের জন্য যে সুবিধাগুলো মিলছে, সেগুলো সহজে ভোলার নয়। আর গত অক্টোবরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতি এখনও টাটকা অনেকের মনেই। মানেকা বানু, সুফিয়া বেগমদের কথায়, তখন দ্রুত সাহায্য পৌঁছেছিল, না খেয়ে থাকতে হয়নি—এই অভিজ্ঞতাও তাদের মনে গেঁথে আছে।
নববর্ষের সন্ধ্যায় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন মমতা। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী জ্ঞানোত্তার দিকসু, ইমাম মহম্মদ রবি, পুরোহিত চন্দন মুখোপাধ্যায় এবং এক চার্চের ফাদার। সবাই মিলে হাত ধরে একটাই বার্তা দিলেন—প্রকৃতির দুর্যোগ কেটে যায়, কিন্তু মানুষে মানুষে ভেদাভেদ যেন না বাড়ে। ডুয়ার্সে যেন সম্প্রীতির এই পরিবেশ অটুট থাকে।

Social Plugin