চলতি আইপিএলে ঘরের মাঠে এখনও পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। তিনটে ম্যাচ খেলেছে, তিনটেতেই জয়। সেই ধারাটা ধরে রাখার লক্ষ্যেই শনিবার তারা নামছে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে।
বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং মানেই এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিরাট কোহলির উপর। দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তিনি। আগের ম্যাচেও প্রায় একাই দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ৪৯ রানের ইনিংস খেলে। স্বাভাবিকভাবেই, তাঁকে ঘিরেই বাড়তি চিন্তা দিল্লির। শুরুতে ফিল সল্টের সঙ্গে যদি কোহলির জুটি জমে যায়, তাহলে দিল্লির বোলারদের কাজ কঠিন হয়ে পড়বে।
শুধু কোহলি নন, অধিনায়ক রজত পাতিদারও ভালো ছন্দে আছেন। তার সঙ্গে টিম ডেভিড, দেবদূত পাদিক্কাল, জিতেশ শর্মার মতো ব্যাটাররা যে কোনো দিন ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বোলিংয়েও যথেষ্ট ভারসাম্য রয়েছে বেঙ্গালুরুর। নতুন বলে ভুবনেশ্বর কুমার আর জস হ্যাজলউডের মতো অভিজ্ঞ পেসাররা আছেন, আর স্পিনে সুয়াশ শর্মার সঙ্গে ক্রুণাল পাণ্ডিয়াও ভরসা জোগাতে পারেন।
অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের পরিস্থিতি একেবারেই স্বস্তির নয়। টানা দু’টি ম্যাচ হেরে দল এখন চাপে। আর একটা হার মানেই সমস্যাটা আরও বাড়বে। তাই এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই অক্ষর প্যাটেলদের সামনে।
দিল্লির ব্যাটিং শুরুতে কিছুটা ভরসা দিয়েছিলেন সমীর রিজভি, কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাঁর ব্যাটে সেই ধার দেখা যাচ্ছে না। পাথুম নিশাঙ্কা আর লোকেশ রাহুল যদি শুরুটা মজবুত করে দিতে পারেন, তাহলে মিডল অর্ডারের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। সেখানে ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস আর অক্ষর নিজেই বড় ভূমিকা নিতে পারেন।
তবে আসল চ্যালেঞ্জটা বোলারদের জন্য। কোহলিদের আটকাতে গেলে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করতে হবে। নতুন বলে মুকেশ কুমার, লুঙ্গি এনগিডি বা টি নটরাজনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। চমক হিসেবে শুরুতেই স্পিন আনা হতে পারে, যেখানে অক্ষর প্যাটেল কার্যকর হতে পারেন। আর স্পিন বিভাগে কুলদীপ যাদব তো রয়েইছেন, যিনি মাঝের ওভারে ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
সব মিলিয়ে, বেঙ্গালুরুর আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে, আর দিল্লি মরিয়া হয়ে ফিরতে চাইছে জয়ের পথে। মাঠে নামার পর কোন দল চাপ সামলাতে পারে, সেটাই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ফল।

Social Plugin