ইরানকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের, ইরানের ওপর "নরকের আগুন" নেমে আসবে

ইরান আর আমেরিকার টানাপোড়েন এখন এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে বড়সড় সংঘাত শুরু হতে আর খুব বেশি বাকি নেই বলেই মনে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, সেটি আরও একদিন বাড়িয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে—এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত শুরু হয়ে এখন প্রায় ৩৭ দিন পেরিয়ে গেছে। এতদিন ধরে হুমকি, পাল্টা হুমকি, এমনকি সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও তেহরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে পারেনি আমেরিকা। ওই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো ইরানের হাতেই নিয়ন্ত্রিত। সময় যত এগোচ্ছে, ট্রাম্পের ধৈর্য যে ফুরিয়ে আসছে, তা তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যেই স্পষ্ট।

হরমুজ খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বেশ কড়া, এমনকি অশালীন ভাষাও ব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, কোন দিন ইরানের কোন কোন জায়গায় হামলা হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এর মাঝেই আবার আশাবাদী সুরে বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই নাকি একটা সমঝোতা হয়ে যেতে পারে।

রবিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ আর ‘সেতু দিবস’। অর্থাৎ, ওই দিন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আর সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে—এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর পরেই আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ না খুললে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

যদিও ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে না ইরান। তাদের তরফে বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য আসলে অসহায়তা আর অস্থিরতারই প্রকাশ। ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি এসেছে—যদি আমেরিকা বা ইজরায়েল ইরানের ভেতরে কোথাও হামলা চালায়, তাহলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধিরা আমেরিকার এই হুমকিকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান পরিষ্কার জানিয়েছে, তাদের মাটিতে কোনো আঘাত এলে তার জবাব কঠোরভাবেই দেওয়া হবে। এমনকি ইরানের সামরিক নেতৃত্ব বলেছে, প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশগুলোর তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই নতুন সময়সীমা আর পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থির হয়ে উঠছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা যে বাড়ছে, তা আর লুকোনোর উপায় নেই।