ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা দেওয়ার পর একদিনও পেরোয়নি, তার মধ্যেই আবার নতুন করে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মন্ত্রী খাজা আসিফ।
শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে আসিফ সরাসরি ভারতকে সতর্ক করে বলেন, ভারত যদি কোনো ধরনের ‘সাজানো হামলা’ বা ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন করার চেষ্টা করে, তাহলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় গড়াতে পারে যে যুদ্ধের আঁচ গিয়ে পৌঁছাবে কলকাতা পর্যন্ত। তাঁর অভিযোগ, ভারত নাকি মৃতদেহ সাজিয়ে পাকিস্তানি জঙ্গি বলে চালানোর পরিকল্পনা করছে। তবে আগের মতোই, এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নাম আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবেযা এই পুরো কথার লড়াইয়ে নতুন করে পূর্ব ভারতের দিকটাকেও সামনে এনে দিচ্ছে। খাজা আসিফ-এর এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন এর আগেই তিনি “দ্রুত, সুপরিকল্পিত ও চূড়ান্ত” জবাব দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেটা ছিল রাজনাথ সিংয়ের এর “নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত” পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া। এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে কথার লড়াইই যেন আলাদা করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার ওপর পহেলগাঁও হামলার বার্ষিকী যত এগিয়ে আসছে, ততই দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান আরও জোর দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
এই বক্তব্যকে অনেকেই দেখছেন রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাব হিসেবে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সীমান্তে কোনো রকম উসকানি এলে ভারত এমন জবাব দেবে, যা পাকিস্তানের পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব হবে না। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও-এর জঙ্গি হামলার পর ভারতের যে কড়া অবস্থান ছিল, সেই কথাই মূলত আবার তুলে ধরেন তিনি। ভারতের অবস্থানও পরিষ্কার—নিজের সুরক্ষা আর জঙ্গি দমনে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আসিফের এই ভাষার পেছনে রয়েছে গত বছরের অভিজ্ঞতা। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়েছিল, তাতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। সেই সময় পাকিস্তান বেশ চাপের মধ্যে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ১০ মে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানাতে বাধ্য হয়। সেই ধাক্কা থেকেই এখন বারবার দিল্লি, মুম্বইয়ের সঙ্গে কলকাতার নাম তুলে চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি, ঋণের চাপ, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর-এর কাছে বিপুল পরিমাণ দেনা, সব মিলিয়ে অর্থনীতি টালমাটাল। তার ওপর বালুচিস্তান ও সিন্ধ প্রদেশের অশান্তি, সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্তে টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছেই।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দেশের ভেতরের এই সমস্যাগুলো থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই ভারত-বিরোধী অবস্থানকে সামনে আনা হচ্ছে। ইতিহাস বলছে, এই কৌশল নতুন নয়। তবে ভারতের তরফে বার্তা স্পষ্ট—উসকানি চলতে থাকলে জবাবও হবে আরও কঠোর।

Social Plugin