হরমুজ প্রণালী চালুর জন্য আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন করবেন ম্যাক্রোঁ ও স্টারমার

হরমুজ প্রণালী আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শুক্রবার তারা যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে না নিয়েই বিভিন্ন দেশের নেতাদের নিয়ে একটি বড় বৈঠকের আয়োজন করছেন। উদ্দেশ্য একটাই—এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবার সচল করার পথ খোঁজা।

এরই মধ্যে লেবাননে শুক্রবার থেকে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ অন্তত সাময়িকভাবে থামবে। গত কয়েক সপ্তাহের টানা সহিংসতার পর এই বিরতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কমাতেও কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত নয়। লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল তাদের ভাষায় “আগ্রাসী” পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এখনো স্পষ্টভাবে জানায়নি তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে কিনা। যদিও সংগঠনটির এক শীর্ষ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হলে তারাও সংঘর্ষ থামাতে রাজি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কাছাকাছি। এমনকি তিনি এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে পাকিস্তান সফরের কথাও ভাবছেন।

জ্বালানি সংকট নিয়েও বাড়ছে দুশ্চিন্তা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের দেশগুলো যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসা বা সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি রক্ষা করতে না যায়। তাদের মতে, এতে খরচ কমানোর স্বাভাবিক চাপ নষ্ট হয়ে যায় এবং সরকারি ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ইউরোপ বড় ধরনের চাপে পড়েছে। তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চল এখন বাড়তি দামের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই অবস্থায় ইউরোপীয় কমিশন চায়, সদস্য দেশগুলো যেন প্রয়োজনে সরকারি খরচ বাড়িয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে—বিশেষ করে জ্বালানি ও সারের বাড়তি খরচ সামাল দিতে।