ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে ‘অসহযোগিতামূলক’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন না নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। তিনি সরাসরি এটিকে ‘অসহযোগিতামূলক’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রেডিও নিউজিল্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাক্সন বলেন, এখন নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপের দিকে যাওয়ার সময় নয়। বরং পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সেটাই সবার আগে দেখা দরকার।

তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় ব্রিজ, জলাধার বা অন্য কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়া একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার কথায়, এমন পদক্ষেপ শুধু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় সদস্য এখনও নিখোঁজ—এ তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় বেশ চটে গেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই তথ্য বাইরে চলে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের অভিযোগ, এমন সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় সেনাবাহিনীর কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়। নিখোঁজ সদস্যের অবস্থান খুঁজে বের করা যেখানে জরুরি ছিল, সেখানে এই ফাঁস পুরো প্রক্রিয়াটাকেই জটিল করে তুলেছে। সংবাদমাধ্যমের দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যারা এই খবর প্রকাশ করেছে, তাদের কাছ থেকে সূত্রের পরিচয় জানতে চাওয়া হবে। তার ভাষায়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই—সূত্রের নাম জানাতে হবে, না হলে আইনি পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ট্রাম্প ‘অসুস্থ মানসিকতার’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হয়তো ওই ব্যক্তি বুঝতেই পারেনি, এর ফল কতটা গুরুতর হতে পারে। তবে প্রশাসন এই ঘটনায় কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়—যেই দায়ী হোক, তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

লাক্সনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে আগে উত্তেজনা কমাতে হবে। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সেই বৈঠকে নিউজিল্যান্ড তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরবে—সংঘাত দ্রুত শেষ করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া সব দেশেরই দায়িত্ব।

বিশ্বজুড়ে যখন অস্থিরতা বাড়ছে, তখন নিউজিল্যান্ডের এই অবস্থানকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও ট্রাম্পের এই ধরনের কড়া অবস্থানের সমালোচনা করা সহজ ব্যাপার নয়। এতে ওয়াশিংটনের ওপর কিছুটা হলেও চাপ তৈরি হতে পারে বলেই ধারণা কূটনৈতিক মহলের।

লাক্সন জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রদর্শনের বদলে এখন দরকার আলোচনায় বসা। না হলে এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই, আর তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে নিউজিল্যান্ড। তাই পিটার্স ও রুবিওর এই বৈঠক শুধু নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত। লাক্সনের এই মন্তব্যে মূলত যুদ্ধের ঝুঁকি আর বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টাই সামনে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র এই বার্তাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।