রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মাত্র ১ রানে দিল্লিকে হারিয়ে অবশেষে জয়ে ফিরল গুজরাত

দিল্লিতে বুধবারের আইপিএল ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত গিয়ে এমন নাটকীয় হয়ে উঠবে, সেটা হয়তো কেউ ভাবেনি। শেষ ওভারের টানটান লড়াইয়ে গুজরাট টাইটান্স শেষ পর্যন্ত ২ রানে জিতে এই মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয়। আর দিল্লি ক্যাপিটালস? জয়ের দোরগোড়ায় গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে।

শেষ ওভারের ঘটনাটাই ম্যাচের আসল গল্প। প্রসিধ কৃষ্ণ বল করছেন, হাতে তখন জয়ের আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ডেভিড মিলার। পঞ্চম বলে সহজেই এক রান নেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু মিলার সেটি নেননি। হয়তো ভেবেছিলেন শেষ বলেই কাজটা সেরে ফেলবেন। কিন্তু ওই এক সিদ্ধান্তই সব গড়িয়ে দেয়। ধীরগতির বলটা ঠিকমতো বুঝতে পারেননি, ব্যাটেও লাগাতে পারেননি। এর মধ্যে কুলদীপ যাদব রান নিতে দৌড় দেন, আর উইকেটের পেছনে জস বাটলার কোনো ভুল করেননি—স্টাম্প ভেঙে দেন চোখের পলকে।

২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লি শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২০৯ রানে থামে। অর্থাৎ জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ মুহূর্তে ছিটকে যায়। এর আগে ব্যাট হাতে গুজরাট ভালোই ভরসা জুগিয়েছিল। বাটলার দ্রুত ৫২ রান করে দলকে শুরুটা এনে দেন, তারপর অধিনায়ক শুভমান গিলের ৭০ আর ওয়াশিংটন সুন্দরের ৫৫ রানে দল ২১০ পর্যন্ত পৌঁছায়।

দিল্লির রান তাড়ার শুরুটাও ছিল দারুণ। রাহুল আর পাথুম নিসাঙ্কা মিলে ভালো একটা জুটি গড়ে দেন, দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচটা তাদের দিকেই যাচ্ছে। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে রশিদ খান খেলা ঘুরিয়ে দেন। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে তিনি গুজরাটকে আবার ম্যাচে ফেরান।

শেষ দুই ওভারে দিল্লির দরকার ছিল ৩৬ রান—কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। তখনই চোটের চিকিৎসা নিয়ে ফিরে এসে মিলার যেন নতুন করে আশা জাগান। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ সিরাজকে একাই ২৩ রান তুলে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন—দুটি ছক্কা, একটি চার, পুরো গ্যালারি তখন উত্তেজনায় ফুটছে।

শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রান। প্রথম বলেই চার, তারপর উইকেট—চাপ আবার বাড়ে। কিন্তু মিলার লং-অফের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মেরে ম্যাচ প্রায় নিজেদের করে ফেলেছিলেন। সেখান থেকেই নাটকীয় মোড়। শেষ পর্যন্ত সেই এক রান না নেওয়ার সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে বেশি চোখে লাগে। ম্যাচ শেষে বোঝা গেল, ক্রিকেটে এক মুহূর্তের ভাবনাও কত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

এই হারের মধ্য দিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো হারের স্বাদ পেল। আর গুজরাট টাইটান্স, টানা চেষ্টার পর অবশেষে জয় পেয়ে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।