চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে পিএসজি আপাতত ঠিক পথেই আছে। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফিরছে তারা।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ১১ মিনিটে ডেজায়ার দুয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন, সেটা এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে হঠাৎই গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলির মাথার ওপর দিয়ে জালে ঢুকে যায়। গোলটা কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় এলেও, এরপর থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগ সময়ই ছিল পিএসজির হাতে।
লিভারপুলের জন্য বাস্তবতা এখন বেশ কঠিন। প্রিমিয়ার লিগে তারা অনেক আগেই শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে, তাই এই প্রতিযোগিতাই শেষ ভরসা। প্রথমার্ধে গোল শোধের চেষ্টা তারা করেছে ঠিকই, কিন্তু খুব একটা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বড়সড় ধাক্কা খেল বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠেই ১০ জনে নেমে পড়ে শেষ পর্যন্ত অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হেরে বসেছে তারা। বুধবার ক্যাম্প ন্যু-তে হওয়া এই অল-স্প্যানিশ লড়াইয়ের শুরুটা কিন্তু বার্সেলোনারই ছিল। বলের দখল, পাসের ছন্দ—সবকিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু খেলার মোড় ঘুরে যায় এক মুহূর্তেই। অ্যাটলেটিকোর জুলিয়ানো সিমিওনে যখন প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগের সামনে, তখন তাকে ফাউল করে বসেন পাউ কুবারসি। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান, আর সেখান থেকেই বিপদ শুরু। সেই ফ্রি-কিক থেকেই প্রথম গোল পায় অ্যাটলেটিকো। জুলিয়ান আলভারেজ দারুণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। এরপর বার্সেলোনা ১০ জন নিয়ে কোনোভাবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও, সংখ্যাগত ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে মাঠে। শেষদিকে, ম্যাচের প্রায় ২০ মিনিট বাকি থাকতে আলেকজান্ডার সোরলোথ দ্বিতীয় গোলটি করে দেন। তখনই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। দিয়েগো সিমিওনের দল ইতিহাসে অনেকবার কাছাকাছি গিয়েও এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১৪ আর ২০১৬ সালে ফাইনালে উঠেও শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হার মানতে হয়েছিল। তবে এবারের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে, তারা আবারও বড় কিছু করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।অন্যদিকে বার্সেলোনার সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। শেষবার ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা দলটিকে এবার যদি সেমিফাইনালে উঠতে হয়, তাহলে মাদ্রিদে ফিরতি লেগে প্রায় অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনই করতে হবে।
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি আরও গুছিয়ে খেলেছে। ৬৫ মিনিটে খভিচা কভারাতস্খেলিয়া দারুণ একক প্রচেষ্টায় ব্যবধান বাড়ান। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে এসে কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন, তারপর গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান। গোলটা যেমন সুন্দর, তেমনি আত্মবিশ্বাসী।
পরিসংখ্যান দেখলেও বোঝা যায় ম্যাচটা কোন দিকে গেছে। পিএসজি মোট ১৮টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। লিভারপুল সেখানে মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছে, আর একটাও ঠিকমতো গোলমুখে লাগেনি।
ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটও সেটা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ২-০ তে হারলেও তারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারে, কারণ পিএসজি আরও বেশি গোল করতে পারত। তার মতে, এই ব্যবধানে হারার ফলে এখনো দ্বিতীয় লেগে ফেরার একটা সুযোগ রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো ম্যাচেই বলের দখল আর খেলার গতি পিএসজির নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেও খুব একটা সফল হয়নি লিভারপুল, বরং বারবার রক্ষণ ভেঙে প্রতিপক্ষ এগিয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর এই ম্যাচে একটু সাবধানে দল সাজিয়েছিল লিভারপুল। রক্ষণে তিনজন সেন্টার-ব্যাক খেলানো হয়, এমনকি মোহাম্মদ সালাহকেও শুরুতে নামানো হয়নি। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হয়নি। পিএসজি যেভাবে বল দখলে রেখে আবার মুহূর্তে গতি বাড়িয়ে আক্রমণে উঠেছে, সেটা সামলাতে গিয়েই বেশ বেগ পেতে হয়েছে লিভারপুলকে।

Social Plugin