ট্রফিটা এখনও ধরা দেয়নি। গত চার বছর ধরে লিগ পর্বই পেরোতে পারেনি দিল্লি ক্যাপিটালস। তবু এবারের আইপিএলে শুরুটা বেশ আত্মবিশ্বাসী ভাবেই করেছে দলটা। প্রথম ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে চাঙ্গা মেজাজে রয়েছে লোকেশ রাহুলদের শিবির।
শনিবার ঘরের মাঠে তাদের সামনে বড় পরীক্ষা—প্রতিপক্ষ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হলেও গত কয়েক বছর ধরে শিরোপা নেই তাদের ঝুলিতে। তবে এবার হার্দিক পান্ডিয়ার দলকে দেখে অন্যরকম লাগছে। রোহিত শর্মা দুর্দান্ত ছন্দে আছেন, আর ওপেনার রিকেলটনও কেকেআরের বিরুদ্ধে ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে মুম্বই কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ঘরের মাঠে দিল্লিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আইপিএলে টানা দ্বিতীয় জয় পাঞ্জাব কিংসের। শুক্রবার চিপকে চেন্নাই সুপার কিংসকে ৫ উইকেটে বশ মানাল শ্রেয়স-ব্রিগেড। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হলুদ জার্সিধারীদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২০৯।
লখনউয়ের বিরুদ্ধে জয় এলেও দিল্লির টপ অর্ডার নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। লোকেশ রাহুল, পাথুম নিশাঙ্কা বা নীতীশ রানা—কেউই বড় রান পাননি। ম্যাচটা জেতায় মূল ভূমিকা নেয় তরুণ সমীর রিজভির সাহসী ব্যাটিং; ৪৭ বলে ৭০ রানের ইনিংস চাপের সময় দলের হাল ধরেছিল। ট্রিস্টান স্টাবসও তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার সঙ্গে ডেভিড মিলার আর অক্ষর প্যাটেলের মতো ভরসাযোগ্য ব্যাটার থাকায় দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ মোটেই দুর্বল নয়।
বলিংয়ে কুলদীপ যাদব আর অক্ষর প্যাটেলের স্পিন জুটি মুম্বইয়ের ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারে। পেস আক্রমণে লুঙ্গি এনগিডি প্রধান ভরসা, সঙ্গে মুকেশ কুমার আর টি নটরাজনও সুযোগ পেতে পারেন।
মুম্বইয়ের দলগত ভারসাম্য চোখে পড়ার মতো। ওপেনিং জুটির ভালো ফর্ম বাকিদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে শুরুতেই চাপ এলে অনেক সময় সেটা সামলাতে হিমশিম খায় দলটা—এই জায়গাটাই চিন্তার। তিলক ভার্মার ধীর গতির ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার, আর সূর্যকুমার যাদবও আগের ম্যাচে ছাপ ফেলতে পারেননি। যদিও নিজের দিনে তিনি একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। মিডল অর্ডারে হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে নজর থাকবে নমন ধীর আর শেরফানে রাদারফোর্ডের দিকে।
বলিংয়ে প্রথম ম্যাচে খুব একটা জমাট ছবি দেখা যায়নি মুম্বইয়ের। ট্রেন্ট বোল্ট বেশ রান খরচ করেছেন, যদিও শার্দূল ঠাকুর তুলনায় ভালো বল করেছেন। যশপ্রীত বুমরাহ যদি ছন্দে থাকেন, তাহলে দিল্লির ব্যাটারদের কাজ কঠিন হয়ে যাবে। তবে কোটলার পিচ যদি স্পিনারদের সহায়তা করে, তাহলে আল্লাহ গজনফর হতে পারেন ম্যাচের চমক।

Social Plugin