যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ থাকা এক ক্রুকে খুঁজতে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। তাদের দাবি, দুইজনের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা গেছে।
জানা গেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। এদিকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও ঘটনাস্থল ঘিরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা পারস্য উপসাগরের আকাশে আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বিমানটির উদ্ধার অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তবে সেই বিমানের পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে—এমনটাই এখন পরিষ্কার হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ব্যয়বহুল সামরিক অভিযান, দেশের ভেতরে নজিরবিহীন ‘নো কিংস’ আন্দোলন, তার সঙ্গে জ্বালানির লাগামছাড়া দাম—সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসন বেশ চাপের মধ্যেই পড়েছে। চাপটা শুধু বাইরে নয়, ভেতরেও জমছে। গত জানুয়ারিতেই ট্রাম্প নিজে আশঙ্কা করেছিলেন, রিপাবলিকানরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে পিছিয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আবারও অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আগের মেয়াদে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি হয়েছেন, তাই বিষয়টা একেবারেই অমূলক নয়। এরই মধ্যে সামনে চলে এসেছে ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সময় যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ জটিল হচ্ছে। অর্থনীতির টানাপোড়েন, জনমতের ওঠানামা আর কংগ্রেসের সম্ভাব্য পালাবদল—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে একটা অস্বস্তি কাজ করছে। নির্বাচন কী ফল নিয়ে আসবে, আর তার প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কতটা পড়বে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে পরিস্থিতি শুধু এই ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নেই। তেহরান, সিরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিভিন্ন এলাকায় টানা হামলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তাদের হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন, মেরিন কোরের ১৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। একই সময়ে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ ইরানের আকাশে তল্লাশি অভিযানের সময় একটি মার্কিন বিমানকে দুটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে উড়তে দেখা গেছে। তখন ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল।
প্রতিবেদন বলছে, একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজনের খোঁজ এখনও মেলেনি। কী অবস্থায় আছেন তিনি, তা এখনো পরিষ্কার নয়। দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান।
এই অভিযানে দুটি হেলিকপ্টার এবং একটি এ-১০ ওয়ার্থগ যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। উদ্ধার হওয়া পাইলটকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার ছোট অস্ত্রের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে ভেতরে থাকা কয়েকজন আহত হন। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে নামতে পেরেছে।
অন্যদিকে, এ-১০ বিমানটি আঘাত পাওয়ার পর তার পাইলট পারস্য উপসাগরের ওপরেই বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তারা একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে মার্কিন পক্ষ যে বিমানের কথা বলছে, সেটিই সেই বিমান কি না—এই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Social Plugin