বৃষ্টিতে ইডেনে কেকেআর-পাঞ্জাব ম্যাচ ভেস্তে গেল, প্রথম পয়েন্ট নাইটের

একই ঘটনা দু’বার ঘটে না—এমন কথাই তো শোনা যায়। কিন্তু ইডেনে যেন নিয়মটাই উল্টো। টানা দু’মরশুমে একই দৃশ্য—বৃষ্টি এসে ম্যাচটাই ভাসিয়ে দিল। গত বছর পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে যা হয়েছিল, এ বারও প্রায় তারই পুনরাবৃত্তি। অবাক হওয়ারই কথা, কারণ সারাদিন শহর জ্বলন্ত রোদে পুড়েছে।

বৃষ্টি থামার পরও আশা ছিল। রাত ১১টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষার সময় ছিল ম্যাচ শুরু করার জন্য। সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির উদ্যোগে শেষ চেষ্টা হয়েছিল মাঠ প্রস্তুত করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর খেলা শুরু করার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি।

তবে এই ম্যাচটা না হওয়াটা কলকাতার জন্য মন্দ হল না বলেই অনেকের মত। অন্তত এক পয়েন্ট তো পাওয়া গেল। কারণ শুরুটা যেভাবে হয়েছিল, তাতে আশার আলো খুব একটা ছিল না। মাত্র দু’ওভারের মধ্যেই ফিন অ্যালেন আর ক্যামেরন গ্রিন এমনভাবে আউট হলেন, যেন নেট প্র্যাকটিস চলছে। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, দিনটা সহজ হবে না।

ইডেনে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় এক পয়েন্ট পেয়েছে কলকাতা। কিন্তু সেই এক পয়েন্ট নিয়েই মজার খোঁচা দিতে ছাড়লেন না শ্রেয়স আইয়ারের বোন শ্রেষ্ঠা আইয়ার। ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে একটি রিল পোস্ট করেন তিনি। সেখানে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বেশ হাসিঠাট্টার মেজাজে দেখা যায় শ্রেষ্ঠাকে। ভিডিওতে হেসে তিনি বলেন, “আমরা পাঞ্জাবিরা কিন্তু খুব বড় মনের মানুষ… এই নাও, ১ পয়েন্ট দিয়ে দিলাম।” এরপরই পাঞ্জাবি গানের তালে শুরু হয় নাচ। পুরো সময় জুড়েই হাতের ইশারায় ‘এক’ দেখিয়ে সেই এক পয়েন্টের ইঙ্গিতও করতে থাকেন সবাই। বিষয়টা একেবারেই হালকা মেজাজে হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

চলতি মরশুমে কলকাতার পারফরম্যান্স এমনিতেই দুশ্চিন্তার। বিশেষ করে ক্যামেরন গ্রিন—যার জন্য বিপুল টাকা খরচ করা হয়েছে—তিনি এখনও পর্যন্ত নিজের ছায়াও হতে পারেননি। ব্যাটে রান নেই, বোলিংয়েও প্রভাব নেই। হতাশা বাড়ছেই।

এদিন ইডেনে হাজির ছিলেন শাহরুখ খানও। কিন্তু তিনি যা দেখলেন, তাতে খুশি হওয়ার মতো কিছু ছিল না। মাত্র ৩.৪ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৫ রান, তাও দুই উইকেট খুইয়ে। জেভিয়ার বার্টলেটের সুইংয়ের সামনে বিদেশি ব্যাটাররা একেবারেই অসহায়। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে আর অঙ্গকৃশ রঘুবংশীও খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। এই ফরম্যাটে যেখানে অন্য দলগুলো ছক্কার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে, সেখানে কলকাতা যেন অন্য যুগে খেলা খেলছে।

ম্যাচের আগেই আরেকটা চমক ছিল। দলে নেই সুনীল নারিন আর বরুণ চক্রবর্তী। বলা হল, একজন অসুস্থ, আরেকজন চোটে। কিন্তু দু’জনকেই ম্যাচের আগে মাঠে দেখা গেল, নারিন তো বলও করলেন। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটা কি সত্যিই চোট-অসুস্থতা, নাকি খারাপ ফর্মের জন্যই বাদ?

টস জিতে রাহানের ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তও অনেকের মাথায় ঢোকেনি। এমন মেঘলা আবহাওয়ায় সাধারণত দলগুলো রান তাড়া করতেই পছন্দ করে। তার উপর পিচ দু’দিন ঢেকে রাখা ছিল। সেটাকে শুকনো ভাবার যুক্তি ঠিক কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সব মিলিয়ে, মাঠে যেমন অনিশ্চয়তা ছিল, তেমনই দলটার ভাবনাতেও যেন খানিক দোলাচল স্পষ্ট।