রাজস্থানের বিরুদ্ধে আজ মরিয়া মুম্বই, খেলবে কি পাণ্ডিয়া?

সঞ্জু স্যামসন দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং ভেঙে পড়বে। কিন্তু মাঠে তার উল্টো ছবিই দেখা গেছে। টানা দুই ম্যাচ জিতে বেশ চনমনে মেজাজেই আছে দলটা। এবার তাদের সামনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, মঙ্গলবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

মুম্বই কাগজে-কলমে যতই শক্তিশালী হোক, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিন্তু আশাব্যঞ্জক নয়। গত ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে বেশ বাজেভাবেই হেরেছে তারা। সেই ম্যাচে হার্দিক পাণ্ডিয়া খেলতে পারেননি। তবে রাজস্থানের বিরুদ্ধে তার ফেরার সম্ভাবনা আছে, আর সেটা হলে মুম্বই কিছুটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাবে।

রাজস্থানের ব্যাটিং মূলত ওপেনারদের ওপরই ভর করে। যশস্বী জয়সওয়াল আর বৈভব সূর্যবংশী শুরুটা ঝড়ের গতিতে করতে পারেন। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্ট বা জসপ্রিত বুমরাহর মতো বোলারদের সামনে তারা কতটা স্বচ্ছন্দ থাকবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। গত ম্যাচে ধ্রুব জুরেলের ৪২ বলে ৭৫ রানের ইনিংস দলকে বাঁচিয়েছিল। তবে অধিনায়ক রিয়ান পরাগ এখনও ব্যাট হাতে ঠিক ছন্দে নেই। শিমরন হেটমায়ারও রান পাচ্ছেন না। ফলে শুরুতেই উইকেট পড়ে গেলে রাজস্থান কীভাবে সামলাবে, সেটাই দেখার।

বর্ষাপাড়ার উইকেট সাধারণত একটু ধীর গতির, স্পিনাররা সুবিধা পায়। তাই রবি বিষ্ণোইয়ের দিকে নজর থাকবেই। সঙ্গে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা থাকায় দলটা কিছুটা বাড়তি ভারসাম্য পায়।

অন্যদিকে মুম্বইয়ের ব্যাটিংয়ে ভরসা রোহিত শর্মা আর রায়ান রিকেলটনের ওপর। কেকেআরের বিরুদ্ধে জয়ের ম্যাচে দু’জনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিলক ভার্মা আর সূর্যকুমার যাদব মাঝের সারিতে থাকছেন। হার্দিক ফিরলে দল গঠনে কিছু বদল আসতে পারে—দীপক চাহারকে হয়তো বসতে হতে পারে।

বোলিংয়েও মুম্বই যথেষ্ট শক্তিশালী। বোল্টকে দলে ফেরানো হতে পারে, আর বুমরাহ তো রয়েছেনই—যাকে খেলতে গিয়ে প্রায় সব ব্যাটারই সমস্যায় পড়েন। স্পিন বিভাগে মায়াঙ্ক মারকাণ্ডে ভরসার জায়গা।

ম্যাচের আগে মুম্বইয়ের কোচ পরস মামরে জানিয়েছেন, হার্দিক এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং খেলতে প্রস্তুত। বুমরাহও ফিট আছেন। তিনি বলেন, চোট-আঘাতের জন্য দল বদলানো অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে তাদের দলে এমন খেলোয়াড় আছে যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিতে পারে।

রাজস্থানের বিরুদ্ধে হার্দিকের রেকর্ডও বেশ ভালো—এই দলের বিপক্ষে তার ব্যাট-বল দুই দিকেই অবদান আছে। তাই এই ম্যাচে তাকেও বড় ফ্যাক্টর হিসেবেই ধরা হচ্ছে।