ওরাকল সম্প্রতি বড় আকারে কর্মী ছাঁটাই করেছে, আর তার ধাক্কা শুধু অফিসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই—বাইরেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে বিদায় দিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১২ হাজারই ভারতে কাজ করতেন। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রিক পরিকাঠামো গড়ার জন্যই এই পুনর্গঠন।
ভারতে এই ছাঁটাইয়ের পরিমাণটা বেশ বড়—অনেকটা অর্ধেক কর্মীবাহিনীই এর মধ্যে পড়ে গেছে। আর তার প্রভাব সবচেয়ে আগে চোখে পড়ছে বেঙ্গালুরুর আবাসন বাজারে। বহুদিন ধরেই শহরটার উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট বা বাড়ির চাহিদা মূলত প্রযুক্তিখাতের মোটা বেতনের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। এখন সেই জায়গাতেই ধাক্কা লাগছে।
এই ছাঁটাইয়ের ধাক্কা প্রযুক্তিখাতেও বেশ স্পষ্ট। ইঞ্জিনিয়ারিং, পণ্য ব্যবস্থাপনা, অপারেশনস থেকে শুরু করে ক্লাউড পরিকাঠামো—প্রায় সব বিভাগেই কাটছাঁট হয়েছে। অনেকেই নাকি ভোরবেলা হঠাৎ করে ইমেল পেয়ে জানতে পেরেছেন তাদের চাকরি আর নেই। পরে আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। এমন আচমকা পরিস্থিতিতে অনেকে হতাশ, আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের কথা মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুর আবাসন বাজারে এখন একটা স্পষ্ট সতর্কতা কাজ করছে। যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা তো নতুন করে কিছু কিনতে পারছেনই না, উল্টে কিস্তি সামলানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর যারা এখনও কাজ করছেন, তারাও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন—ফলে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে চাইছেন না, অনেকেই অপেক্ষা করছেন। ফলে বাজারে চাহিদা কিছুটা ঢিলে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা পুরোপুরি ধস নয়, বরং আচরণে একটা পরিবর্তন। তবে নিয়োগ যদি ধীরই থাকে, তাহলে চাপ বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ব্যাপারটা একটা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তিখাত এখন ধীরে ধীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। আগে যেখানে দ্রুত হারে নিয়োগ হচ্ছিল, এখন সেই গতি অনেকটাই কমে এসেছে। খরচ বাড়ছে, আর অনেক কাজই এখন যন্ত্র দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কিছু ধরনের চাকরির প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে সফটওয়্যার তৈরি আর সাপোর্টের মতো ক্ষেত্রে।
এই পরিবর্তনটা একদিনে আসেনি, কিন্তু এখন তার প্রভাব চোখে পড়ার মতো হয়ে উঠছে। সামনে এই খাতটা ঠিক কোন দিকে যাবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কাজের ধরন কত দ্রুত বদলায় তার ওপর।

Social Plugin