শেষ বলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারাল লখনউ, মুকুলের হাত ধরে

আইপিএল ২০২৬-এ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এমন এক ম্যাচ হলো, যেটা সহজে ভোলার নয়। প্রায় হাতের মুঠোয় চলে আসা জয় শেষ মুহূর্তে ছিনিয়ে নিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। আর এই নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই নাম—মুকুল চৌধুরী।

২৭ বলে ৫৪ রান। সংখ্যাটা যতটা সাধারণ শোনায়, ইনিংসটা মোটেও তেমন ছিল না। সাতটা ছক্কা, দুটো চার—আর সবচেয়ে বড় কথা, ভয়ঙ্কর চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে খেলা। শেষ বলে এসে ম্যাচ জিতল লখনউ, তাও আবার ‘বাই’ থেকে পাওয়া রান। এর চেয়ে নাটকীয় আর কী হতে পারে!

একসময় কিন্তু ম্যাচটা পুরো অন্যদিকে যাচ্ছিল। ১৭ ওভারের শেষে লখনউয়ের স্কোর ১৩৯/৭। গ্যালারিতে তখন কেকেআরের সমর্থকদের উৎসব শুরু হয়ে গেছে প্রায়। ইডেনের সেই চেনা গর্জন, সোনালি-বেগুনি পতাকা—সবই যেন বলছিল, এ ম্যাচ আর হাতছাড়া হচ্ছে না।

কিন্তু মুকুল অন্য গল্প লিখতে নামেন। শুরুটা অবশ্য তাঁর খুব একটা ভালো হয়নি—প্রথম ৮ বলে মাত্র ২ রান। তারপর হঠাৎ যেন গিয়ার বদলে ফেললেন। পরের ১৯ বলে একাই তুলে নিলেন ৫২ রান। নাইটদের বোলাররা তখন কার্যত দিশেহারা।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৪ রান। বৈভব অরোরার ওভারে চাপটা ঠিকই ছিল, কিন্তু সেটা ধরে রাখতে পারল না কলকাতা। শেষ বলে মুকুল পুল করতে গিয়ে মিস করলেন, কিন্তু ‘বাই’ থেকে এক রান—আর তাতেই ম্যাচ শেষ।

এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স ব্যাট করে তুলেছিল ১৮১/৪। স্কোরবোর্ডে দেখলে বেশ শক্তপোক্তই লাগে। কিন্তু ভেতরের গল্পটা আলাদা। শুরুটা খারাপ হলেও, অজিঙ্কা রাহানে আর অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর জুটিতে ম্যাচে ফেরে কেকেআর। দু’জনে মিলে ৮৪ রান যোগ করেন। রাহানে ৪১, রঘুবংশী ৪৫—দু’জনেই ভালো খেলছিলেন, কিন্তু বড় ইনিংসে নিয়ে যেতে পারেননি।

এরপর দ্রুত তিনটে উইকেট পড়ে যায়। রিঙ্কু সিংও ব্যর্থ। শেষদিকে ক্যামেরন গ্রিন আর রভম্যান পাওয়েল কিছু রান যোগ করলেও, সেটা খুব একটা গতি পায়নি। গ্রিনের ইনিংসটা বিশেষ করে ধীর ছিল—শুরুতে তো ১৬ বলে মাত্র ১৪ রান করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ করে অপরাজিত থাকেন, পাওয়েল করেন ৩৯।

লখনউয়ের রান তাড়া শুরুটা মন্দ হয়নি। আইডেন মার্করাম আর মিচেল মার্শ ভালোই খেলছিলেন। কিন্তু বৈভব অরোরার এক ওভারেই খেলা ঘুরে যায়। পরপর দুটো উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে কেকেআর। এরপর ঋষভ পন্থও বেশি কিছু করতে পারেননি, ক্যামেরন গ্রিনের বলে আউট হয়ে ফেরেন। নিকোলাস পুরানও ব্যর্থ।

মাঝখানে আয়ুশ বাদোনি লড়াইটা ধরে রেখেছিলেন। তাঁর ৫৪ রানের ইনিংস না থাকলে ম্যাচ এতদূর গড়াতই না। কিন্তু তিনি আউট হতেই মনে হচ্ছিল, লখনউয়ের আশা শেষ।

সেখান থেকেই মুকুলের আগমন। একদম অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে ম্যাচটা টেনে আনলেন। শেষ ১২ বলে যখন ৩০ দরকার, তখনও কেকেআর এগিয়েই ছিল। কিন্তু ১৯তম ওভারে গ্রিন ১৬ রান দিয়ে চাপটা হালকা করে দেন। আর শেষ ওভারে সব হিসেব উলটে যায়।

ঘরের মাঠে আবার হার। প্লে-অফের দৌড়ে কেকেআরের জন্য এটা বড় ধাক্কা। আর লখনউ পেল এক দারুণ আত্মবিশ্বাসের জয়—যার নায়ক, নিঃসন্দেহে মুকুল চৌধুরী।