হুমায়ুন কবীর এখন বেশ চাপে পড়েছেন। তাঁর দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে থাকা জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে মিম, অর্থাৎ আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল। ফলে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন আর কারও সঙ্গে নয়, একাই লড়াই করবে—এ কথা তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে।
মিমের তরফে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুসলিমদের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এমন কোনও বক্তব্যের পাশে তারা থাকতে চায় না। তাই এই মুহূর্ত থেকেই হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
পুরো ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি ভিডিও। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রায় ১৯ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যদিও এর সত্যতা আলাদা করে যাচাই করা হয়নি। সেখানে দেখা যায়, হুমায়ুন কবীর কারও সঙ্গে কথা বলছেন। কথোপকথনের এক জায়গায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “মুসলিমদের বোকা বানানো খুব সহজ।” ভিডিওটি সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তবে হুমায়ুন কবীর এই অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁর দাবি, পুরো ভিডিওটাই বানানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় খুব একটা ভরসা রাখেনি মিম। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই তারা জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে বাংলার মুসলমানরা কতটা অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন। এমন কোনও মন্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে তারা নিজেদের যুক্ত করতে চায় না, যেখানে মুসলিম সমাজের সততা বা মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
একই সঙ্গে মিম তাদের অবস্থানও পরিষ্কার করেছে। তাদের মতে, বাংলার মুসলমানরা এখনো অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা অন্যতম বড় একটি সম্প্রদায়। এতদিনের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ শাসনেও সেই অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
দলটি জানিয়েছে, তাদের নীতি হচ্ছে প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর তৈরি করা। সেই কারণেই তারা এবার বাংলার নির্বাচনে একাই লড়বে। ভবিষ্যতেও অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।

Social Plugin