চেলসির বিপক্ষে ম্যান সিটির জয় আর্সেনালকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে

ম্যানচেস্টার সিটি খুব ভালোভাবেই বোঝে, শিরোপার দৌড়ে ঠিক কোন মুহূর্তে নিষ্ঠুর হতে হয়। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসিকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচের একেবারে শেষদিকে তারা সেটারই আরেকটা উদাহরণ দিল।

শেষ আট মিনিটের অতিরিক্ত সময়—সাধারণভাবে যেটা অনেক দল কেবল সময় পার করার জন্য ব্যবহার করে—সেই সময়েই সিটি যেন আরও ক্ষুধার্ত হয়ে উঠল। এই দৃশ্য নিশ্চয়ই আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা আর তার খেলোয়াড়দের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, বিশেষ করে সামনে যখন তাদের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির মুখোমুখি হতে হবে।

সেই ম্যাচটা এখন শুধু আরেকটা ম্যাচ নয়, শিরোপা নির্ধারণের দিকেই এগোচ্ছে। আর্সেনাল যদি জিতে যায়, তাহলে তারা পয়েন্ট তালিকায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে—যা তাদের জন্য বিশাল স্বস্তির। সাম্প্রতিক কয়েকটা হারের ধাক্কাও অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবে, আর ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো লিগ জয়ের স্বপ্নটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

কিন্তু যদি সিটি জিতে যায়, তাহলে হিসাব একদম বদলে যাবে। ব্যবধান নেমে আসবে মাত্র ৩ পয়েন্টে, আর হাতে থাকা অতিরিক্ত ম্যাচ জিতলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

এই গোল ব্যবধানের হিসাবটাই চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল। শুরুতে আর্সেনালের চেয়ে ৭ গোলে পিছিয়ে ছিল সিটি। কিন্তু সপ্তাহান্তের ম্যাচগুলোর পর সেই ব্যবধান কমে এখন মাত্র ৩।

তাই ম্যাচ প্রায় জেতা হয়ে যাওয়ার পরও সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যে বিন্দুমাত্র ঢিলেমি দেখা যায়নি। চেলসি সমর্থকেরা তখন হতাশ হয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ছেন, আর চতুর্থ রেফারি যখন অতিরিক্ত সময় হিসেবে ৮ মিনিট দেখালেন, তখনই যেন সিটির খেলোয়াড়রা নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা ৩-০ নয়—বরং ১-১ সমতায় আটকে আছে, আর জয়ের গোল দরকার। একের পর এক আক্রমণ, গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা—আর্লিং হালান্ড নিজেও নিজের নাম স্কোরশিটে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

চেলসি তখন কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে পড়েছিল। সিটির চাপের মুখে তারা যেন দিশেহারা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি ঠিকই, কিন্তু সিটির বার্তাটা পরিষ্কার—একটা গোলও তাদের কাছে ছোট কিছু নয়। সুযোগ পেলেই তারা আঘাত করবে, শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত।