অভিষেকেই ঝড় তুললেন প্রফুল হিঙ্গে ও সাকিব হোসেন, রাজস্থানকে ৫৭ রানে হারাল হায়দরাবাদ

হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে নামার আগে টানা চারটে ম্যাচ জিতে বেশ ছন্দে ছিল রাজস্থান। বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়াল, রিয়ান পরাগ—এই তরুণ ত্রয়ী ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষের কাছে ভয় ধরাচ্ছিল। কিন্তু সোমবার সব হিসাব গুলিয়ে দিল হায়দরাবাদ। ম্যাচে হেরে যাওয়াটাই শুধু নয়, রাজস্থানের দুর্বলতাগুলোও একেবারে সামনে চলে এল।

প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ তোলে ২১৬ রান। জবাবে রাজস্থানের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৫৯ রানে। ব্যবধানটা শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ৫৭। আর এই ধস নামানোর কাজটা করল দুই নতুন মুখ—প্রফুল হিঙ্গে আর সাকিব হুসেন। আইপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলেই নজর কাড়লেন দু’জনেই।

২১৭ রান তাড়া করতে নেমে ৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলে আসলে ম্যাচ তখনই প্রায় শেষ। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, একসময় মনে হচ্ছিল রাজস্থান বুঝি আইপিএলের সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ডও ভেঙে ফেলবে। শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্র জাডেজা আর ডোনোভান ফেরেরা কিছুটা লড়াই করে দলকে সেই লজ্জা থেকে বাঁচান, কিন্তু জয়ের আশা আর ফেরেনি।

শুরুটাই ছিল ভয়াবহ। প্রথম ওভারেই তিন উইকেট হারায় রাজস্থান। বৈভব সূর্যবংশী দ্বিতীয় বলেই আউট—প্রফুলের বাউন্সার টানতে গিয়ে ক্যাচ দেন। ধ্রুব জুরেল পরের বলেই ভুল শট খেলতে গিয়ে বোল্ড। ওই ওভারেই লুয়ানদ্রে প্রিটোরিয়াসও ফিরে যান। এরপরের ওভারে সাকিবের বলে আউট হন যশস্বী জয়সওয়াল। চাপের মুহূর্তে আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে উল্টো ক্ষতিই করলেন তিনি। প্রফুল পরে নিজের দ্বিতীয় ওভারে রিয়ান পরাগকেও ফেরান।

একেবারে ধসে পড়া অবস্থা থেকে জাডেজা আর ফেরেরা ষষ্ঠ উইকেটে ১১৮ রানের জুটি গড়েন। জাডেজা করেন ৪৫, আর ফেরেরা একটু বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ৬৯ রান করেন। তবে দু’জনেই কাছাকাছি সময়ে আউট হয়ে গেলে শেষ ভরসাটাও ভেঙে যায়। প্রফুল নেন ৪ উইকেট, সাকিবও ৪টি—এই দুই বোলারই মূলত ম্যাচটা ঘুরিয়ে দেন।

হায়দরাবাদের ইনিংসের শুরুটাও অবশ্য খুব ভালো ছিল না। জফ্রা আর্চারের প্রথম বলেই আউট হন অভিষেক শর্মা। এরপর কিছুটা ধাক্কা সামলাতে সময় নেয় দল। ট্রেভিস হেডও খুব দ্রুত খেলতে পারেননি। তবে ঈশান কিশন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। তার ব্যাটেই হায়দরাবাদ ধীরে ধীরে গতি পায়।

পরে ক্লাসেন যোগ দেওয়ার পর একটা সময় রান উঠছিল ধীরে, কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক বিরতির পর ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। ঈশান আর ক্লাসেন দু’জনেই মারতে শুরু করেন। কয়েকটা ওভারে দ্রুত রান উঠে যায়।

ঈশান শেষ পর্যন্ত বড় ইনিংস খেললেও শতরান পাননি। সন্দীপ শর্মার বলে আউট হয়ে ফেরেন। ক্লাসেনও ৪০ করে ফিরে গেলে আবার খানিকটা থেমে যায় গতি। তবে শেষ দিকে নীতীশ রেড্ডি আর সলিল অরোরার ঝড়ো ব্যাটিং, বিশেষ করে ১৮তম ওভারে ২৪ রান, ম্যাচটা পুরোপুরি হায়দরাবাদের দিকে নিয়ে যায়।

শেষ দুই ওভারে খুব বেশি রান না উঠলেও ততক্ষণে ২০০ পেরিয়ে গেছে দল। আর সেই রানই পরে রাজস্থানের জন্য হয়ে দাঁড়ায় নাগালের বাইরে।