ধরমশালায় কোয়ালিফায়ারে হাইভোল্টেজ লড়াই, কোহলি বনাম গিল দ্বৈরথে জমবে বেঙ্গালুরু-গুজরাত মহারণ

লিগ পর্ব শেষ করে দুর্দান্ত ছন্দে প্লে-অফে পৌঁছেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল এবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে এক নম্বর জায়গা দখল করেছে। একই পয়েন্ট নিয়ে গুজরাত টাইটান্সও প্লে-অফে উঠেছে ঠিকই, তবে নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ফলে মঙ্গলবার পাহাড়ে ঘেরা ধরমশালায় প্রথম কোয়ালিফায়ার কার্যত দুই সেরা দলের শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠছে।

তবে শুধু দলগত লড়াই নয়, ম্যাচ ঘিরে আলাদা উত্তেজনা তৈরি করেছে বিরাট কোহলি ও শুভমান গিলকে ঘিরেও। একদিকে অভিজ্ঞতার প্রতীক ‘কিং’ কোহলি, অন্যদিকে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের অন্যতম মুখ শুভমান গিল। মাঠের বাইরে সৌহার্দ্য থাকলেও বাইশ গজে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না, তা বলাই যায়।

বেঙ্গালুরুর টানা দ্বিতীয়বার প্লে-অফে ওঠার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান বিরাট কোহলির ধারাবাহিক ব্যাটিং। ১৪ ইনিংসে ৫৫৭ রান করে তিনি এখনও অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে শক্ত জায়গায় রয়েছেন। শুধু ব্যাট নয়, বল হাতেও ভুবনেশ্বর কুমার এবং জস হ্যাজলউড দলের ভরসা হয়ে উঠেছেন।

তবে গুজরাতের শক্তি যে কম নয়, সেটাও পরিষ্কার। বিশেষ করে কাগিসো রাবাডার বিরুদ্ধে কোহলির রেকর্ড খুব একটা স্বস্তির নয়। অতীতে একাধিকবার দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসারের সামনে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁকে। শুরুতেই রাবাডা আঘাত হানলে বেঙ্গালুরুর মধ্যক্রমের ওপর চাপ বাড়বে। তখন রজত পাটীদার, জিতেশ শর্মা, টিম ডেভিড বা রোমারিও শেফার্ডদের বড় দায়িত্ব নিতে হবে।

অন্যদিকে গুজরাতের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন। দু’জনেই এই মরশুমে ধারাবাহিক রান করেছেন এবং দ্রুত গতিতে ইনিংস গড়েছেন। অরেঞ্জ ক্যাপের তালিকাতেও তাঁরা সামনের সারিতে। তবে তাঁদেরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে ভুবনেশ্বর কুমারের বিরুদ্ধে। নতুন বলে ভুবনেশ্বর কতটা কার্যকর হতে পারেন, সেটা ক্রিকেট মহলের অজানা নয়।

বোলিং বিভাগে দুই দলের শক্তির লড়াইটাও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, জেসন হোল্ডার এবং রশিদ খানকে নিয়ে গুজরাতের আক্রমণ যথেষ্ট ভয়ঙ্কর। অন্যদিকে বেঙ্গালুরুও ভুবনেশ্বর ও হ্যাজলউডকে সামনে রেখে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি।

দল নির্বাচনের জায়গাতেও বেঙ্গালুরুর কিছু চিন্তা রয়েছে। ফিল সল্ট পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরলে দলে বদল আনা হতে পারে। তবে শেষ ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করা কাউকে বাইরে বসানোও সহজ সিদ্ধান্ত নয়। বিদেশি ক্রিকেটারদের সমীকরণও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আর একটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা বেঙ্গালুরুর দিকে ঝুঁকছে। কয়েকদিন আগেই ধরমশালায় খেলে এসেছে তারা। অন্যদিকে এই মরশুমে প্রথমবার ওই মাঠে নামতে চলেছে গুজরাত। পাহাড়ি পরিবেশ, পিচের আচরণ এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই তাই গিলদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

প্লে-অফের চাপ, দুই শক্তিশালী দলের লড়াই, আর তার সঙ্গে কোহলি-গিল দ্বৈরথ— সব মিলিয়ে ধরমশালার রাত যে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য জমজমাট হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।