গুজরাতের সামনে অসহায় চেন্নাই, বড় হারে কার্যত শেষ ঋতুরাজদের প্লে-অফ স্বপ্ন

এবারের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের পথ প্রায় থেমেই গেল। গুজরাতের বিরুদ্ধে একতরফা হারের পর প্লে-অফের সম্ভাবনা কার্যত শেষ ঋতুরাজ গায়কোয়াড়দের। বৃহস্পতিবার ২৩০ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ চেন্নাই। মাত্র ১৪০ রানেই গুটিয়ে গেল পুরো দল। অন্যদিকে ৮৯ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার প্রথম দুইয়ে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল গুজরাত।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল গুজরাত। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন দুই ওপেনার সাই সুদর্শন এবং শুভমন গিল। শুরু থেকেই চেন্নাই বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন তাঁরা।

সাই সুদর্শন ৫৩ বলে ৮৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক শুভমন গিলও অর্ধশতরান করে দলের ভিত শক্ত করেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬৪ রান। শেষদিকে জস বাটলারের ঝোড়ো ব্যাটিং গুজরাতকে আরও শক্ত জায়গায় পৌঁছে দেয়। তিনি অপরাজিত ৫৭ রান করেন। সেই তিন ব্যাটারের ইনিংসের উপর ভর করেই ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৯ রান তোলে গুজরাত।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভেঙে পড়ে চেন্নাইয়ের ব্যাটিং। মাত্র ৬৩ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। প্রথম সারির ব্যাটাররা কেউই দাঁড়াতে পারেননি।

সঞ্জু এবং উর্বিল রান না করেই ফিরে যান। অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৬ রান।

একসময় শিবম দুবে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। সাত নম্বরে নেমে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। কিন্তু ৪৭ রান করে আউট হওয়ার পর চেন্নাইয়ের বাকি ব্যাটিং লাইনআপ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত ১৩.৪ ওভারেই ১৪০ রানে শেষ হয়ে যায় চেন্নাইয়ের ইনিংস।

গুজরাতের হয়ে বল হাতে দুরন্ত ছিলেন মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা এবং রশিদ খান। তিনজনই তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়ে চেন্নাইয়ের ব্যাটিংকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেন।

এই জয়ের ফলে ১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গুজরাত নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল। আপাতত তাদের সামনে রয়েছে শুধু বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে চেন্নাইয়ের কাছে এই হার শুধু দুই পয়েন্ট হারানো নয়, প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া একটা মরশুমের হতাশার ছবিও তুলে ধরল।