প্লে-অফ নিশ্চিত, এবার নজর শীর্ষে, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু লড়াইয়ে বাজি প্রথম দুইয়ে জায়গা পাকা করার

প্লে-অফের দরজা আগেই খুলে গিয়েছে দুই দলের জন্য। এখন আর শুধু পরের পর্বে ওঠা নয়, লক্ষ্য আরও বড়। টেবিলের একেবারে ওপরে শেষ করা, অথবা অন্তত প্রথম দু’য়ের মধ্যে জায়গা নিশ্চিত করা। কারণ ক্রিকেটের এই অঙ্কটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দুইয়ে থাকলে এলিমিনেটরের চাপ এড়িয়ে সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলার সুযোগ থাকে। সেখানে হারলেও ফাইনালে ওঠার আরেকটা রাস্তা খোলা থাকে।

এই অবস্থায় শুক্রবারের লড়াইটা তাই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। মুখোমুখি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু। হায়দরাবাদকে হারাতে পারলেই সেই জায়গা আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে হায়দরাবাদের ঝুলিতে এখন ১৬ পয়েন্ট। তারা জিতলে দুই দলের পয়েন্ট সমান হবে। তখন হিসেব কষতে হবে নেট রানরেট দিয়ে।

তবে ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা থাকবে প্যাট কামিন্সদের হাতে। আর সেই আত্মবিশ্বাসের বড় জায়গা ব্যাটিং। ট্রাভিস হেড, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ, হেনরিখ ক্লাসেন— ব্যাট হাতে প্রায় সবাই ছন্দে রয়েছেন। দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বোলিংয়েও ভরসা আছে। নেতৃত্বে কামিন্স তো রয়েছেনই, সঙ্গে এশান মালিঙ্গা এবং প্রফুল হিঞ্জেরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর আত্মবিশ্বাসের জায়গা তাদের ধারাবাহিকতা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল এবারের প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের ছন্দ ধরে রেখেছে। ১৩ ম্যাচে ৯ জয় তারই প্রমাণ।

ব্যাট হাতে আবারও দলের অন্যতম নির্ভরতা বিরাট কোহলি। এবারের প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যেই একটি শতরান এবং চারটি অর্ধশতরান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। মোট রান ৫৪২। পাশাপাশি দেবদূত পাডিক্কলও নিয়মিত অবদান রাখছেন। তাঁর সংগ্রহ ৪১২ রান। অধিনায়ক রজত পাটীদারও রয়েছেন ভালো ছন্দে।

বোলিং বিভাগে বেঙ্গালুরুর বড় অস্ত্র ভুবনেশ্বর কুমার। অভিজ্ঞ এই পেসার ১৩ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়ে এখন পার্পল ক্যাপের দখলদার। তাঁর সঙ্গে জশ হ্যাজলউড, রাশিখ সালাম এবং ক্রুণাল পাণ্ডিয়ারাও দলকে ভারসাম্য দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে শুক্রবারের ম্যাচ শুধু দুই পয়েন্টের লড়াই নয়। এটা সুবিধাজনক জায়গা দখলের লড়াই। প্লে-অফের আগে মানসিক দাপট দেখানোর লড়াই। আর সবচেয়ে বড় কথা, ট্রফির দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার লড়াই।