ইডেনে শততম ম্যাচে দাপুটে জয়, প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে রইল কলকাতা নাইট রাইডার্স

ইডেন গার্ডেন্সে নিজেদের শততম ম্যাচটা মনে রাখার মতো করেই সাজাল কলকাতা নাইট রাইডার্স। গুজরাত টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে প্লে-অফের আশাটা জিইয়ে রাখল সোনালি-বেগুনি শিবির। প্রায় আড়াইশো রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে গুজরাত টাইটান্স পৌঁছতে পারল ২১৮/৪-এ। এখন ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট কলকাতার—শেষ দুই ম্যাচ জিততে পারলে শেষ চারে ঢোকার রাস্তা খোলা থাকবে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তুলেছিলেন ফিন অ্যালেন। তাঁর ব্যাটে যেন একেবারে কালবৈশাখীর দাপট। মাঝপথে দু’বার জীবন পেলেও সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতরান, শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৯৩। দশটা ছক্কা আর চারটে চার—ইনিংসটা ছিল পুরোপুরি টি-টোয়েন্টির মেজাজে। শতরানের গন্ধ ছিল, কিন্তু সাই কিশোরের বলে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে বসেন।

অন্যদিকে অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে আবারও ব্যর্থ। ১৪ বলে ১৪ রান করে তাঁর ইনিংস দেখে মনে হচ্ছিল, যেন অন্য ফরম্যাটের ম্যাচ খেলতে নেমেছেন। আক্রমণাত্মক হওয়ার তাগিদটা যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল।

এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এবং ক্যামেরন গ্রিন। দু’জনেই অপরাজিত থেকে যথাক্রমে ৮২ ও ৫২ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ১০৮ রানের জুটি কলকাতাকে ২৪৭/২-এ পৌঁছে দেয়—এই মরশুমে দলের সর্বোচ্চ স্কোর। যদিও গুজরাতের ফিল্ডিং এদিন ভরসা জাগাতে পারেনি—একাধিক সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছে, যার খেসারত দিতে হয় শেষ পর্যন্ত।

বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় গুজরাত। সুনীল নারিন তাঁর ২০০তম ম্যাচে প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন। এরপর শুভমান গিলজস বাটলার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় গতি ধরে রাখতে পারেননি। গিল ৪৯ বলে ৮৫ করে আউট হতেই ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায়। বাটলার ৫৭ রান করেন, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

চোট পেয়েও মাঠে নেমেছিলেন সাই সুদর্শন, অপরাজিত ৫৩ রানও করেন। কিন্তু সেই লড়াই দলকে জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

তবে জয়ের মাঝেও একটা চিন্তা থেকেই যাচ্ছে নাইট শিবিরে। মরশুমে প্রথমবার খেলতে নেমে চোট পান মাথিশা পাথিরানা। ডান পায়ে টান ধরায় তিনি আট বলের বেশি করতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই চোট কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।