পুতিনের চীন সফর আসন্ন, ইউক্রেন ইস্যু ও জ্বালানি বাণিজ্য নিয়েও মুখ খুলল ক্রেমলিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন খুব শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন—এই খবরই জানালেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। বৃহস্পতিবার মস্কোয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সফরের দিনক্ষণ চীনের সঙ্গে আলোচনা সেরে খুব তাড়াতাড়িই জানানো হবে।

পেসকভের কথায়, প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন কেবল কিছু শেষ মুহূর্তের কাজ বাকি। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই এই সফর বাস্তবায়িত হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির নিরিখে এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মধ্যে শেষবার বৈঠক হয়েছিল, যদিও সেটি হয়েছিল ভার্চুয়াল মাধ্যমে। সেই বৈঠকে দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশ্ব নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছিল।

এদিকে, বেইজিংয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলের সফর ঘিরে নানা জল্পনা থাকলেও পেসকভ পরিষ্কার জানিয়েছেন, সেসব আলাদা বিষয়। রাশিয়া নিজেদের মতো করেই চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা রয়েছে।

অন্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, নতুন মানবাধিকার কমিশনার হিসেবে ইয়ানা লানত্রাতোভাকে নিয়োগের পর তাঁর সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছেন পেসকভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের কথা ঘোষণা করেছেন, সেই প্রক্রিয়া এখন প্রস্তুতির পর্যায়ে। দুই দেশই বন্দীদের তালিকা মিলিয়ে দেখছে। পেসকভের মতে, এই তালিকা তৈরি করাই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন অংশ, তবে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এই সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হতে পারে কি না—এই প্রশ্নে পেসকভ একেবারেই সন্দিহান। তাঁর বক্তব্য, ইউরোপ ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

রাশিয়ার ‘সারমাত’ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে খুব একটা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পেসকভের দাবি, রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও অনেকেই তা মানতে চাইছেন না।

ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য নিয়েও তিনি আশাবাদী সুরে কথা বলেন। নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদা এখনো রয়েছে। তাঁর কথায়, রাশিয়া এখনও বিশ্বস্ত সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে।

সবশেষে, ইউক্রেনের রাজনীতিতে আন্দ্রি ইয়ারমাককে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পেসকভ জানান, রাশিয়া এই বিষয়ে খুব একটা নজর দিচ্ছে না। তাঁর মতে, বিষয়টি ইউক্রেনের নিজস্ব সমস্যা, এবং তা মস্কো-কিয়েভ শান্তি আলোচনার উপর বিশেষ প্রভাব ফেলবে না।