আর মাত্র তিনটি জয়। তাহলেই ইতিহাস গড়ে প্রথমবার আইএসএল খেতাব ঘরে তুলতে পারে ইস্টবেঙ্গল। কয়েক সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি এতটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। টানা কয়েকটি ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করে লিগের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল লাল-হলুদ। কিন্তু শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়ে ফের ছন্দে ফিরেছে অস্কার ব্রুজোঁর দল। শুধু নিজেদের জয়ই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির হোঁচটও এখন বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে।
১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে গোল পার্থক্যে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। গত ম্যাচে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে, তাতে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে সাউল, শৌভিকদের।
এখন অবশ্য গোটা দলের নজর ১১ মে-র ম্যাচে। ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব এফসি। তার কয়েকদিন পরেই মরশুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, কলকাতা ডার্বি। এই দু’টি ম্যাচ জিততে পারলে লিগ খেতাব প্রায় হাতের মুঠোয় চলে আসবে বলেই মনে করছেন সমর্থকদের একাংশ। কারণ শেষ ম্যাচে তুলনায় সহজ প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশীর মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল।
তবে এত দূরের হিসেব এখনই করতে নারাজ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। তাঁর সমস্ত মনোযোগ আপাতত পাঞ্জাব ম্যাচেই।
লিগ টেবিলে পাঞ্জাব এখন ষষ্ঠ স্থানে। ১০ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৮ পয়েন্ট। কিন্তু শুধুমাত্র অবস্থান দেখে এই দলকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে আক্রমণভাগে এফিয়ং সুনগুসি ও বেডে সুজির মতো ফুটবলাররা যে কোনও রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারেন। ফলে এই দুই নাইজেরীয় ফরোয়ার্ডকে আটকানোই বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে আনোয়ার আলিদের ডিফেন্স লাইনের সামনে।
গত কয়েকটি ম্যাচে তিন ডিফেন্ডারের ফরমেশন ব্যবহার করেছেন অস্কার। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধেও সেই কৌশল বজায় থাকলে রক্ষণে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে ইস্টবেঙ্গলকে।
তার উপর রয়েছে কেভিন সিবলের কার্ড সমস্যাও। ইতিমধ্যেই তিনটি হলুদ কার্ড দেখে ফেলেছেন তিনি। আর একটি কার্ড দেখলেই এক ম্যাচের জন্য নির্বাসিত হতে হবে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে। সামনে ডার্বি থাকায় তাঁকে খেলানো নিয়ে কিছুটা চিন্তায় কোচিং স্টাফ।
মুম্বই থেকে ফিরে বৃহস্পতিবারই অনুশীলনে নেমে পড়েছে দল। এদিন মূলত রিকভারি সেশন হয়েছে। শুক্রবার থেকে পুরো দমে শুরু হবে পাঞ্জাব ম্যাচের প্রস্তুতি। ইউসেফ এজেজ্জারি-সহ গোটা দল এখন সেই লক্ষ্যেই চোখ রেখে এগোচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin