মার্শের ঝোড়ো শতরান, শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে দাপুটে জয় লখনউয়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে শেষ হাসি হাসল লখনউ। অটল বিহারী বাজপায়ী স্টেডিয়ামে শুক্রবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেঙ্গালুরুকে ৯ রানে হারাল তারা। ম্যাচে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিলেন মিচেল মার্শ। তাঁর বিধ্বংসী শতরানই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল।

টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার। লখনউয়ের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন মার্শ ও কুলকার্নি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন দু’জন। পাওয়ার প্লেতেই রান ওঠে ঝড়ের গতিতে।

তবে নবম ওভারে প্রথম ধাক্কা খায় লখনউ। ১৭ রান করে ফিরে যান কুলকার্নি। দলীয় স্কোর তখন ৯৫। এরপর ক্রিজে আসেন নিকোলাস পুরান। মার্শ ও পুরানের জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকে। একদিকে মার্শের আগ্রাসী ব্যাটিং, অন্যদিকে পুরানের ঝোড়ো ইনিংস বেঙ্গালুরুর বোলারদের চাপে ফেলে দেয়।

মার্শ দুরন্ত শতরান পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১১১ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংস ছিল লখনউয়ের বড় রানের ভিত। পরে অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ব্যাট করতে নামেন। পুরান ৩৮ রান করে ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১৯ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান তোলে লখনউ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ কমিয়ে ১৯ ওভারের করা হয়েছিল।

২১০ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বেঙ্গালুরু। প্রথম ওভারেই ৪ রান করে আউট হন বেথেল। দলীয় স্কোর তখন ৯। পরের ওভারেই শূন্য রানে ফিরে যান বিরাট কোহলি। মাত্র দুই ওভারের মধ্যেই দুই বড় উইকেট হারিয়ে কার্যত ধাক্কা খায় বেঙ্গালুরু।

সেই পরিস্থিতিতে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন দেবদত্ত পাডিকাল ও অধিনায়ক পাতিদার। দু’জন মিলে ইনিংস গুছিয়ে শতরানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান দলকে। পাডিকাল ৩৪ রান করে আউট হলেও পাতিদার দুরন্ত অর্ধশতরান করেন। তবে ৬১ রানে তাঁর ইনিংস থেমে যায়।

এরপর টিম ডেভিড ও ক্রুনাল পান্ডিয়া ম্যাচে ফেরার লড়াই চালান। বিশেষ করে ডেভিডের ব্যাট থেকে একের পর এক বাউন্ডারি আসতে শুরু করলে বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের মধ্যে জয়ের আশা ফের জাগে। কিন্তু ৪০ রান করে তিনিও ফিরে যান।

শেষ দিকে পান্ডিয়া ও শেফার্ড চেষ্টা করলেও লক্ষ্য আর ছোঁয়া হয়নি। নির্ধারিত ওভারে ২০৩ রানেই থেমে যায় বেঙ্গালুরু। ফলে ৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় লখনউ।

 ছবি: সংগৃহীত