একদিনের ব্যবধানে ফের ট্রেনের কোচে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রেলপথে। রবিবার রাজস্থানের কোটায় দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসে আগুন লাগার ঘটনা এখনও আলোচনায়, তার মধ্যেই সোমবার সকালে বিহারের সাসারাম রেলস্টেশনে পাটনাগামী একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচে আগুন ধরে যায়।
সোমবার সকালে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা প্রথমে একটি কোচ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া আগুনে রূপ নেয় এবং কোচটি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় স্টেশন চত্বরের বড় অংশ। ঘটনাটি দেখে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী এবং রেল পুলিশ। দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিক তদন্তে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমান, কোচের ভিতরে বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
সাসারাম থেকে পাটনাগামী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি সকাল প্রায় ছ’টার সময় প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৬ থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তার কিছুক্ষণ আগেই ওই কোচে আগুন লাগে। সৌভাগ্যবশত, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কোচটির বড় অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুড়ে যাওয়া কোচটি আলাদা করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনটির অন্যান্য কোচ ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা ভালো করে পরীক্ষা করে তবেই সেটিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, ঠিক আগের দিনই রাজস্থানের কোটার কাছে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ভয়াবহ আগুন লাগে। বিক্রমগড় আলোট রেলস্টেশনের কাছে ট্রেনটির বি–১ নম্বর কোচে আগুন ধরে যায় এবং সেটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ওই কোচে তখন ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সবাইকে নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরে যাত্রীদের অন্য কোচে স্থানান্তর করে কোটা পর্যন্ত যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়।

Social Plugin