ওয়েম্বলির মতো মঞ্চ, এফএ কাপের ফাইনাল—সব মিলিয়ে বড়সড় নাটকীয় কিছু দেখারই আশা ছিল। কিন্তু ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই খেলা যেন গড়াল নিরুত্তাপ ছন্দে। সেই একঘেয়েমির ভেতরেই হঠাৎ আলো ছড়ালেন অ্যান্টোইন সেমেনিয়ো—আর তাতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল।
শেষের দিকে, খেলা যখন প্রায় জমাট বেঁধে গেছে, তখনই আসে সেই মুহূর্ত। ম্যানচেস্টার সিটি-র আক্রমণে আর্লিং হালান্ড একটি বল বাড়িয়ে দেন। দৌড়ে এসে সেটিকে নিখুঁত টোকায় জালে জড়ান সেমেনিয়ো, পরাস্ত হন রবার্ট সানচেজ। গোলটা যেমন আচমকা, তেমনই কার্যকর—কারণ সেটাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের একমাত্র ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায়।
এই জয়ের ফলে সিটি তাদের ট্রফি সংগ্রহে আরেকটি এফএ কাপ যোগ করল। এর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং ক্রিস্টাল প্যালেস-এর বিরুদ্ধে টানা ফাইনাল হারার ধাক্কাও কাটিয়ে উঠল তারা। অন্যদিকে চেলসি-র জন্য এটা চতুর্থবারের মতো ফাইনালে হারের হতাশা—এই মরশুমে শিরোপা জয়ের স্বপ্নও কার্যত শেষ।
তবে এই জয় সিটির চেনা স্টাইলের ছিল না। সাধারণত তাদের খেলা মানেই ঝকঝকে পাসিং, ছন্দ আর নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু এই ম্যাচে সেটা খুব একটা দেখা যায়নি। বরং লড়াই, পরিশ্রম আর ধৈর্যই ছিল আসল ভরসা। সেই কারণেই হয়তো কোচ পেপ গার্দিওলা-র উদযাপনেও ছিল সংযম—দিনটা ছিল জেতার, কিন্তু খুব বেশি উপভোগ করার মতো নয়।
এই ম্যাচে সেমেনিয়োর গুরুত্ব আরও একবার স্পষ্ট হল। জানুয়ারিতে বোর্নমাউথ থেকে দলে আসার পর থেকেই তিনি দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। বড় ক্লাবে যোগ দেওয়ার চাপ তাঁর খেলায় তেমন প্রভাব ফেলেনি—বরং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে এসে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।
এখন সিটির সামনে আরও বড় লক্ষ্য। লিগে এখনও শিরোপার দৌড় চলছে, যদিও আর্সেনাল-এর থেকে তারা সামান্য পিছিয়ে। বাকি দুটো ম্যাচে কী হয়, সেটাই ঠিক করে দেবে মরশুমের শেষ ছবি।
সব মিলিয়ে, এই জয় সিটির আরেকটা দিক তুলে ধরল—সব সময় সুন্দর খেলেই নয়, কখনও কখনও কঠিন পথেই শিরোপা ছিনিয়ে আনতে হয়।

Social Plugin