যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের সম্পর্ক যে আবার তীব্র অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে, তা এখন আর লুকোনো কিছু নয়। পরিস্থিতি কতটা নাজুক, তা বোঝাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বলেছেন—দুই দেশের মধ্যে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, তা যেন কৃত্রিম উপায়ে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। এর মাঝেই তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
সোমবার ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব খারিজ করে দেন। তাঁর ভাষায়, সেটি “সম্পূর্ণ বোকামি”। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যদি ইরানের ওপর হামলা হয়, তবে তাদের জবাব এমন হবে যা যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দেবে।
এই কথার লড়াইয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠছে। এমন এক সময় এই টানাপোড়েন চলছে, যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কয়েকটি অমীমাংসিত প্রশ্ন। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য—ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তাঁর দাবি, একসময় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে রাজি হয়েছিল, কিন্তু পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অন্যদিকে, ইরানের বক্তব্য, তারা আগে নিশ্চিত হতে চায়—যুদ্ধ আবার শুরু হবে না। দুই দেশের মধ্যে যে গভীর অবিশ্বাস রয়েছে, সেটাই আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষক দানিয়া থাফের মন্তব্য, দুই পক্ষ যেন একে অপরের কথা ঠিকভাবে শুনছেই না। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্য ব্যাহত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। এতে শুধু সংঘাত বাড়বে না, গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিও চাপে পড়বে এবং এই অচলাবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স উদ্যোগ নিয়ে প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছে, যেখানে বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে চাপ বাড়াতে নিষেধাজ্ঞার পথেও হাঁটছে পশ্চিমা দেশগুলি। চীনের কাছে ইরানের তেল বিক্রির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ১২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাজ্যও।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে ছোট কোনো ঘটনা বড় সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে—আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার সুযোগও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এখন দেখার, কোন পথে এগোয় দুই দেশ।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin