ক্রিকেটে একটা কথা বহুবার শোনা যায়—ক্যাচ ধরতে না পারলে ম্যাচ জেতা কঠিন। রায়পুরে বুধবারের ম্যাচটা যেন সেই কথারই বাস্তব উদাহরণ হয়ে রইল। কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ হাতছাড়া না হলে ফলটা অন্যরকমও হতে পারত। কিন্তু সুযোগ নষ্টের মাশুল গুনতেই হলো নাইটকে।
প্রথমে ব্যাট করে ১৯২ রান তুলেছিল কেকেআর। রানটা খারাপ ছিল না, বরং লড়াই করার মতোই। কিন্তু জবাবে নামার পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে যেভাবে ইনিংস গড়লেন বিরাট কোহলি তাতে ম্যাচ ধীরে ধীরে হাতের বাইরে চলে যায় নাইটদের।
শুরুটা অবশ্য কেকেআরের মন্দ ছিল না। ফিন অ্যালেন ঝড় তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বেশিক্ষণ টিকলেন না। অজিঙ্কা রাহানেও বড় কিছু করতে পারলেন না। এরপর ইনিংসের হাল ধরেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী আর ক্যামেরন গ্রিন। দু’জনে মিলে মাঝের ওভারগুলোয় দলকে টেনে তোলেন। গ্রিন আউট হয়ে গেলেও রঘুবংশী দায়িত্ব নিয়ে খেলেন, তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরান। শেষদিকে রিঙ্কু সিংও আবারও নির্ভরযোগ্য ইনিংস খেললেন, যদিও এক রানের জন্য পঞ্চাশ ছোঁয়া হলো না।
এই ইনিংসের মাঝেই কিন্তু দু’টো বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল—কোহলি আর দেবদূত পাদিক্কালের ক্যাচ। সেগুলো যদি ধরা যেত, ম্যাচের ছবিটা অন্যরকম হতেই পারত।
১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন কোহলি। আগের দু’ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর তাঁর ব্যাটে যেন আলাদা জেদ দেখা গেল। দ্রুত রানের গতি বাড়াতে থাকেন তিনি। মাঝপথে সঙ্গী হিসেবে পান দেবদত্ত পাডিক্কাল, আর এই জুটিই ম্যাচটাকে প্রায় একপেশে করে দেয়।
কোহলি ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তুলে পৌঁছে যান অর্ধশতরানে, তারপর শতরানেও। শেষ পর্যন্ত ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি—একেবারে ক্লাসিক ‘চেজ মাস্টার’ ইনিংস। ম্যাচ শেষ হয়ে যায় হাতে পাঁচ বল থাকতেই।
কেকেআরের হয়ে কার্তিক ত্যাগী তিনটি উইকেট নিলেও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। কারণ ম্যাচ তখন অনেকটাই বেরিয়ে গিয়েছে হাতের বাইরে।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এল বেঙ্গালুরু, প্লে-অফের দরজাও প্রায় খুলে গেল তাদের জন্য। অন্যদিকে কেকেআরের পথটা এখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াল। সামনে এগোতে হলে আর ভুলের সুযোগ নেই—বিশেষ করে এমন সহজ ক্যাচ ফসকানোর মতো ভুল।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin