একসময় মনে হচ্ছিল, অবশেষে হয়তো হার ভুলে জয়ের পথে ফিরতে চলেছে পাঞ্জাব কিংস। টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের পর দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে সোমবারের ম্যাচটা শ্রেয়স আয়ারদের কাছে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। ব্যাট হাতেও সেই ইঙ্গিত দিয়েছিল পাঞ্জাব। ৫ উইকেটে ২১০ রানের বড় স্কোর তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই রানও নিরাপদ হল না।
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দিল্লি ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। শেষদিকে অক্ষর প্যাটেল, ডেভিড মিলার এবং আশুতোষ শর্মার আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। অক্ষর মাত্র ৩০ বলে ৫৬ রান করেন। মিলারের ব্যাট থেকেও আসে ২৮ বলে ৫১। শেষে আশুতোষের ঝোড়ো ২৪ রান দিল্লির কাজ আরও সহজ করে দেয়। মাধব তিওয়ারিও গুরুত্বপূর্ণ ১৮ রান যোগ করেন।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য পুরোপুরি পাঞ্জাবের ছিল। ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য প্রথম ওভার থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। মিচেল স্টার্কের করা প্রথম ওভার থেকেই ওঠে ২২ রান। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান প্রিয়াংশ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ওভারে এত রান এর আগে কখনও দেননি স্টার্ক। অস্ট্রেলীয় পেসারের কেরিয়ারেও দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল, যেখানে প্রথম বলেই ছক্কা খেলেন তিনি।
প্রিয়াংশের ব্যাটিং ছিল একেবারে নির্ভীক। মাত্র ২৪ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৫৬ রান করে ফেরেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি ছক্কা এবং ২টি চার। অন্য ওপেনার প্রভসিমরন সিং ১৮ রান করলেও এদিন আলো পুরোটা কেড়ে নেন প্রিয়াংশই।
এরপর ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি। কুপার কনোলি করেন ৩৮, আর শেষদিকে সূর্যাংশ শেদজের ৮ বলে ২১ রান পাঞ্জাবকে ২০০ পেরোতে সাহায্য করে। তবে মার্কাস স্টোইনিস ও শশাঙ্ক সিং সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ১৯তম ওভারে পরপর দু’ বলে দু’জনকেই ফেরান স্টার্ক। যদিও এদিন বল হাতে তাঁর পারফরম্যান্স মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। ৪ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে আইপিএলে নিজের সবচেয়ে খরুচে স্পেলের মধ্যে একটির সাক্ষী থাকলেন তিনি।
দিল্লির হয়ে বল হাতে নজর কাড়লেন নবাগত মাধব তিওয়ারি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই উইকেট তুলে নেন তিনি। তবে সবচেয়ে চমক ছিল অন্য জায়গায়। দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল এদিন একটিও ওভার করেননি। একইসঙ্গে বাদ দেওয়া হয় ফর্মহীন কুলদীপ যাদবকেও।
সব মিলিয়ে, ২১০ রান করেও ম্যাচ হেরে পাঞ্জাবের প্লে-অফের লড়াই আরও কঠিন হয়ে গেল। আর দিল্লি শেষ মুহূর্তের দাপুটে ব্যাটিংয়ে আবারও দেখিয়ে দিল, টি-টোয়েন্টিতে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কোনও ম্যাচই শেষ নয়।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin