টানা সাত ম্যাচে হার না দেখার পর হঠাৎ করেই যেন তাল কেটে গেছে পাঞ্জাব কিংসের। একের পর এক চারটি হার দলের ভেতরে চাপ বাড়িয়েছে, সেটা মাঠের পারফরম্যান্সেও ধরা পড়ছে। তবু সব দরজা এখনও বন্ধ হয়নি। ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনও প্লে-অফের হিসেবের মধ্যে আছে। তবে এখন আর ভুলের জায়গা নেই—বাকি তিন ম্যাচে পয়েন্ট হাতছাড়া মানেই স্বপ্ন প্রায় শেষ।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ধরমশালায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে নামছে পাঞ্জাব। ঘরের মাঠে জিততে পারলে পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৫-তে, আর তখন হিসেবটা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু আইপিএলের ইতিহাস বলছে, শেষ মুহূর্তে এসে সুযোগ হাতছাড়া করার উদাহরণও কম নয়। তাই বাড়তি সতর্কতা থাকছে শ্রেয়স আয়ারের দলেই।
গত ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে ২১০ রান করেও হারের তিক্ততা গিলতে হয়েছে পাঞ্জাবকে। তবে ব্যাটিংয়ে কিছু ইতিবাচক দিক আছে। প্রিয়াংশ আর্য আবার ছন্দে ফিরেছেন, প্রভসিমরন সিং এবং শ্রেয়স নিজেও নিয়মিত রান পাচ্ছেন। মাঝের দিকে কুপার কনোলি আর মার্কাস স্টয়নিসের মতো ব্যাটাররা ঝড় তুলতে পারেন—এই ভরসাতেই এগোচ্ছে দল।
বোলিং বিভাগ তুলনামূলকভাবে বেশ শক্তিশালী। অর্শদীপ সিং, যশ ঠাকুর এবং মার্কো ইয়ানসেনের মতো পেসাররা আছেন, যারা ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন। স্পিনে যুজবেন্দ্র চাহালকে ফেরানো হতে পারে—ধরমশালার উইকেটে সেটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হারানোর তেমন কিছু নেই। প্লে-অফের দৌড় থেকে তারা আগেই ছিটকে গেছে। তাই চাপমুক্ত হয়ে খেলাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। এমন পরিস্থিতিতে মুম্বই সাধারণত আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, যা প্রতিপক্ষের জন্য ঝুঁকির।
রোহিত শর্মা চোট সারিয়ে ফিরে আগের ম্যাচেই বড় রান করেছেন, ফলে তাঁকে ঘিরে আগ্রহ থাকবেই। ওপেনিংয়ে তাঁর সঙ্গী হতে পারেন রিকেলটন। এরপর সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা এবং উইল জ্যাকস—এই লাইনআপ যে কোনো দিন ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। হার্দিক পান্ডিয়া ফিরবেন কি না, সেটাও নজরে থাকবে।
বোলিংয়ে চোখ থাকবে জসপ্রিত বুমরাহর দিকে। এবারের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি তাঁকে। শেষ তিন ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে চাইবেন তিনি—এটাই স্বাভাবিক।
সব মিলিয়ে, একদিকে বাঁচা-মরার লড়াই, অন্যদিকে চাপমুক্ত আক্রমণাত্মক ক্রিকেট—ধরমশালার এই ম্যাচে উত্তেজনার অভাব থাকার কথা নয়।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin