ঝড় তুলে তিলকের হাত ধরে জয়, হঠাৎ হোঁচট পাঞ্জাবের—প্লে-অফের দৌড়ে বাড়ছে চাপ

একটা সময় মনে হচ্ছিল, পাঞ্জাব কিংস বুঝি সবচেয়ে আগে প্লে-অফে জায়গা পাকা করে ফেলবে। টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর তাদের ছন্দটা ছিল একেবারে অন্য মাত্রায়। কিন্তু ক্রিকেটে সমীকরণ বদলাতে বেশি সময় লাগে না। হঠাৎ করেই তাল কেটে গেছে। পরপর পাঁচ ম্যাচে হার, আর তাতেই এখন চাপে শ্রেয়স আয়ারদের দল।

বৃহস্পতিবার নিজেদের মাঠেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে ৬ উইকেটে হার মানতে হল পাঞ্জাবকে। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২০০ রান তুলেছিল তারা। স্কোরটা লড়াই করার মতোই ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হল না।

পাঞ্জাবের শুরুটা মন্দ ছিল না। ওপেনিং জুটিতে ৫০ রান উঠে যায়। প্রিয়াংশ আর্য ২২ করে ফিরে গেলেও প্রভসিমরন সিং ইনিংসটা ধরে রাখেন। ৩২ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মাঝের দিকে কুপার কনোলি ২১ রান যোগ করেন। তবে অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার এদিন একেবারেই ছন্দে ছিলেন না, মাত্র ৪ রানেই ফিরতে হয় তাঁকে। শেষদিকে ওমরজাইয়ের ১৭ বলে ৩৮ রানের ঝটিকা ইনিংস পাঞ্জাবকে ২০০-র গণ্ডি পেরোতে সাহায্য করে।

মুম্বইয়ের হয়ে শার্দূল ঠাকুর বল হাতে দারুণ ছাপ ফেলেন, একাই নেন ৪টি উইকেট। তবে আরেকদিকে যশপ্রীত বুমরাহ উইকেটশূন্যই থেকে যান।

২০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মুম্বই। ইমপ্যাক্ট বদলি হিসেবে নেমে রোহিত শর্মা, রিকেলটনের সঙ্গে মিলে ভালো ভিত গড়ে দেন। দু’জনে মিলে ৬১ রান তোলেন। রিকেলটন ৪৮ করে আউট হন, রোহিতও সেট হয়েও থামেন ২৫ রানে।

এরপর খানিকটা চাপ তৈরি হয়। সূর্যকুমার যাদব না থাকায় ব্যাটিং অর্ডারে বদল আসে, কিন্তু নমন ধীর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তখনই ম্যাচের মোড় ঘোরান তিলক ভার্মা। একদিকে উইকেট পড়লেও তিনি নিজের খেলা ধরে রাখেন। রাদারফোর্ডের ২০ এবং উইল জ্যাকসের অপরাজিত ২৫ রান তাঁকে সঙ্গ দিলেও আসল দায়িত্বটা ছিল তিলকের কাঁধেই।

শেষ তিন ওভারে যখন ৫০ রান দরকার, তখনও ম্যাচটা পুরোপুরি পাঞ্জাবের দিকেই ঝুঁকে ছিল। কিন্তু তিলক সেদিন অন্য মেজাজে ছিলেন। ৩৩ বলে অপরাজিত ৭৫ রান, তার মধ্যে ৬টি চার আর ৬টি ছক্কা—একাই ম্যাচের ছবি পাল্টে দিলেন। শেষ বলের আগেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মুম্বই।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, চোটের কারণে এই ম্যাচেও খেলতে পারেননি অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া। তাঁর জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দেন বুমরাহ। তবু মাঠে ফলাফলে কোনও ঘাটতি রাখেনি মুম্বই।

অন্যদিকে, পাঞ্জাবের জন্য এই হারটা শুধু আরেকটা পরাজয় নয়—এটা তাদের আত্মবিশ্বাসেও ধাক্কা দিচ্ছে। যে দলটা কয়েকদিন আগেও শীর্ষে ছিল, এখন তাদের সামনে বড় প্রশ্ন—এই পতন থামাবে কীভাবে?

  ছবি: সংগৃহীত